{{ news.section.title }}
ইন্দোনেশিয়া-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর
ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে একটি “বড় প্রতিরক্ষা সহযোগিতা অংশীদারত্ব” প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটন বলছে, এ চুক্তি এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জাকার্তার সঙ্গে সম্পর্কের “শক্তি ও সম্ভাবনা” আরও স্পষ্ট করেছে। এমন সময় এই অংশীদারত্বে সই হলো, যখন খবর বেরিয়েছে-যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমা দিয়ে নিজেদের সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের অনুমতি চাইছে।
সোমবার ( ১৩ এপ্রিল ) পেন্টাগনে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফরি শামসুদ্দিনকে স্বাগত জানান মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সেখানেই দুই দেশের মধ্যে নতুন প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব চুক্তি সই হয়।
মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক বিবৃতিতে হেগসেথ বলেন, এই অংশীদারত্ব দুই দেশের নিরাপত্তা সম্পর্কের শক্তি ও সম্ভাবনার প্রতীক। তার ভাষায়, এটি আঞ্চলিক প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদার করবে এবং “শক্তির মাধ্যমে শান্তি” বজায় রাখার যৌথ অঙ্গীকারকে এগিয়ে নেবে।
হেগসেথ আরও বলেন, ওয়াশিংটন ও জাকার্তার নিরাপত্তা সম্পর্ক এখন সক্রিয় এবং ক্রমেই বিস্তৃত হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী প্রতিবছর ১৭০টিরও বেশি যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয়।
নতুন অংশীদারত্ব নিয়ে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুই দেশ একসঙ্গে উন্নত “অ্যাসিমেট্রিক সক্ষমতা” তৈরি, সামুদ্রিক, পানির নিচের ও স্বয়ংক্রিয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রে পরবর্তী প্রজন্মের প্রযুক্তি উদ্ভাবন, এবং সামরিক কার্যক্রমের প্রস্তুতি বাড়াতে কাজ করবে।
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফরি শামসুদ্দিন বলেন, তারা ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত উৎসাহ নিয়ে এই প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নিতে এসেছেন। তার মতে, এই সম্পর্ক এমনভাবে গড়ে তোলা উচিত, যাতে তা ইন্দোনেশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র-উভয় দেশের আগামী প্রজন্মের জন্যও টেকসই হয়।
তিনি আরও বলেন, পারস্পরিক সম্মান ও পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশ জাতীয় স্বার্থের মূল্য আরও বাড়াতে কাজ করছে।
এই প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বে সইয়ের ঘটনা এমন সময় ঘটল, যখন এর একদিন আগে ইন্দোনেশিয়ার বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয় যে দুই দেশ মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজকে ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছে।
রোববার কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমা দিয়ে সামরিক উড়োজাহাজ চলাচলের জন্য “ব্ল্যাঙ্কেট” বা সার্বিক ওভারফ্লাইট অনুমতি চাইছে। একই সঙ্গে বলা হয়, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো নাকি এ প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছেন।
তবে এসব প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় জাকার্তার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দুই দেশ এখনো একটি “লেটার অব ইনটেন্ট” বা অভিপ্রায়পত্র নিয়ে আলোচনা করছে। বর্তমানে ওভারফ্লাইটসংক্রান্ত একটি প্রাথমিক খসড়া কেবল অভ্যন্তরীণভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই খসড়া এখনো চূড়ান্ত নয় এবং এটি কোনোভাবেই বাধ্যতামূলক নয় বলেও জানায় মন্ত্রণালয়।
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, দেশটির আকাশসীমার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইন্দোনেশিয়ার হাতেই রয়েছে। অন্য দেশের সঙ্গে যেকোনো সমঝোতা এমনভাবে করা হবে, যাতে ইন্দোনেশিয়ার সার্বভৌমত্ব সুরক্ষিত থাকে এবং দেশটির আইন মেনে চলা হয়।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী স্যাফরির মুখপাত্র রিকো রিকার্দো সিরাইত জাকার্তা গ্লোবকে বলেন, “চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এটি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়। তাই এটি সরকারি নীতির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।”
তিনি আরও বলেন, “ইন্দোনেশিয়ার আকাশসীমার ক্ষমতা, নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি পুরোপুরি আমাদের দেশের হাতেই থাকবে। জাতীয় আকাশসীমায় যেকোনো কার্যক্রম অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের পূর্ণ কর্তৃত্ব ইন্দোনেশিয়ার থাকবে-সম্ভাব্য যেকোনো নীতিমালায় সেটি নিশ্চিত করা হবে।”
এদিকে, জাকার্তার সরকার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো মঙ্গলবার প্যারিসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এর ঠিক একদিন আগে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তেল ইস্যুতে আলোচনা করেছেন বলে এএফপি জানিয়েছে।
গত মাসে প্রাবোও সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি মজুত সংরক্ষণের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করা হয়। পাশাপাশি জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সরকারি কর্মচারীদের সপ্তাহে এক দিন বাসা থেকে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।