{{ news.section.title }}
ইরানের তেল মজুদ কতদিন টিকবে, ট্রাম্প কি সামরিক পথে যেতে পারেন?
যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মুখেও ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ভেঙে পড়বে না, বরং কয়েক মাস পর্যন্ত টিকে থাকতে পারে বলে ধারণা দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা। তবে এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামরিক উত্তেজনা বাড়ানোর পথ বেছে নিতে পারেন বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক কংগ্রেশনাল রিসার্চ সার্ভিসের সাবেক ইরান বিশ্লেষক কেনেথ ক্যাটজম্যান জানান, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে ইরান বর্তমানে নতুন করে তেল রপ্তানি করতে পারছে না। তবে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা ট্যাংকারে ইরানের প্রায় ১৬০ থেকে ১৭০ মিলিয়ন ব্যারেল তেল মজুদ রয়েছে।
এই তেলগুলো মূলত অবরোধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী পেরিয়ে গেছে এবং এখন শত শত জাহাজে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। এগুলো সরবরাহের অপেক্ষায় আছে বলে জানান ক্যাটজম্যান। তার মতে, এই মজুদ থেকেই ইরান কয়েক মাস পর্যন্ত রাজস্ব আয় চালিয়ে যেতে পারবে।
তিনি আরও বলেন, একজন ইরানি অধ্যাপকের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই তেলের ওপর ভিত্তি করে ইরানের অর্থনৈতিক প্রবাহ অন্তত আগস্ট মাস পর্যন্ত স্থিতিশীল থাকতে পারে। অর্থাৎ, বর্তমান অবরোধ থাকা সত্ত্বেও ইরান তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে পড়বে না।
তবে এই সময়সীমা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। ক্যাটজম্যানের ভাষায়, আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করার মতো সময় ট্রাম্পের হাতে নাও থাকতে পারে। ফলে তিনি তার কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনের জন্য আরও কঠোর বা সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, যদি কূটনৈতিক সমাধান না আসে, তাহলে পরিস্থিতি ‘কাইনেটিক এসকেলেশন’ বা সরাসরি সামরিক উত্তেজনার দিকে যেতে পারে। এতে অঞ্চলজুড়ে অস্থিতিশীলতা আরও বাড়তে পারে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান একদিকে তাদের মজুদ তেলের ওপর নির্ভর করে অর্থনীতি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র অবরোধের মাধ্যমে চাপ বাড়িয়ে যাচ্ছে। এই দ্বন্দ্ব কতদূর গড়ায়, তা নির্ভর করবে আগামী কয়েক মাসের কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।
পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। আন্তর্জাতিক মহল এখন নজর রাখছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শেষ পর্যন্ত আলোচনার পথে হাঁটবে, নাকি সংঘাত আরও তীব্র হবে।