গাজায় হাজারো অঙ্গহানি রোগী সংকটে, কৃত্রিম অঙ্গ প্রবেশে বাধা নিয়ে উদ্বেগ

গাজায় হাজারো অঙ্গহানি রোগী সংকটে, কৃত্রিম অঙ্গ প্রবেশে বাধা নিয়ে উদ্বেগ
ছবির ক্যাপশান, গাজায় হাজারো অঙ্গহানি রোগী সংকটে, কৃত্রিম অঙ্গ প্রবেশে বাধা নিয়ে উদ্বেগ

ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে গাজায় অঙ্গহানি রোগীদের জন্য ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। হাজারো মানুষ, বিশেষ করে শিশু, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পুনর্বাসন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবিক সংস্থা হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন।

সংস্থাটির সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার মানুষের অঙ্গ কেটে ফেলতে হয়েছে যুদ্ধের কারণে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই শিশু। হামলার তীব্র সময়ে প্রতিদিন গড়ে ১০ জন শিশুর এক বা উভয় পা কেটে ফেলতে হয়েছে বলে জানানো হয়।


এই বিপুল সংখ্যক রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় কৃত্রিম অঙ্গ ও পুনর্বাসন সেবার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সংস্থাটির দল ২৯৩ জন অঙ্গহানি রোগীকে শনাক্ত করেছে। এর মধ্যে মাত্র ১১৮ জন কোনো না কোনোভাবে কৃত্রিম অঙ্গ সংযোজন, মেরামত বা রক্ষণাবেক্ষণ সেবা পেয়েছে।


সংস্থাটি আরও জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। এর মধ্যে কৃত্রিম অঙ্গ ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সরঞ্জামও রয়েছে। ফলে নতুন রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া তো দূরের কথা, পুরোনো রোগীদের প্রয়োজনীয় সহায়তাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।


বর্তমানে পুরো গাজা ভূখণ্ডে সক্রিয় কৃত্রিম অঙ্গ বিশেষজ্ঞ বা প্রস্থেটিস্টের সংখ্যা মাত্র ৯ জন, যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম। এই সীমিত জনবল দিয়ে হাজারো রোগীর চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।


মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। চলমান সংঘাতে অঙ্গহানির সংখ্যা বাড়তেই পারে, যা স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে।


এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহলের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জোর দিচ্ছে হিউম্যানিটি অ্যান্ড ইনক্লুশন। সংস্থাটি গাজায় অবিলম্বে মানবিক সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং কৃত্রিম অঙ্গ ও পুনর্বাসন সেবা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছে।


গাজার এই মানবিক সংকট শুধু স্বাস্থ্যখাত নয়, দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অঙ্গহানি রোগীদের পুনর্বাসন নিশ্চিত না হলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে না, যা পুরো সমাজের ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করবে।


সম্পর্কিত নিউজ