{{ news.section.title }}
যুক্তরাষ্ট্রের জব্দ করা ইরানের তেলের ভবিষ্যৎ কী, সামনে কী হতে পারে?
যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক সময়ে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে, যেগুলোতে প্রায় ৩.৮ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল ছিল বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনিন পিরো। তবে এই বিপুল পরিমাণ তেলের ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ঘোষণা দেয়নি ওয়াশিংটন। বিষয়টি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন ও বিশ্লেষণ চলছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র সাধারণত এ ধরনের জব্দকৃত তেলকে সরাসরি ফেরত দেয় না। বরং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তা রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সিভিল ফরফিচার’। এতে আদালতের অনুমোদন নিয়ে সংশ্লিষ্ট তেল বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং পরে তা বিক্রি করা হয়।
এর আগে ইরানের তেল জব্দের একাধিক ঘটনায় একই ধারা অনুসরণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অতীতে একটি ট্যাংকার থেকে জব্দ করা ইরানি তেল মার্কিন কর্তৃপক্ষ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিক্রি করে দেয়। ফলে বর্তমান ঘটনাতেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, বাস্তবিক দিক থেকেও একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া দেখা যায়। জব্দ করা ট্যাংকারগুলো সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র বা তাদের মিত্র দেশের কোনো বন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তেল খালাস করে সংরক্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে বাজারে বিক্রি করা হয়। ভেনেজুয়েলার একটি ট্যাংকার জব্দের পর সেটিকে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে নিয়ে গিয়ে তেল নামানোর ঘটনাও এর উদাহরণ।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নীতিগত অবস্থান বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করে। মার্কিন ট্রেজারি জানিয়েছে, তারা আর ইরানের আটকে থাকা তেল বিক্রির জন্য দেওয়া স্বল্পমেয়াদি অনুমোদন নবায়ন করবে না। একই সঙ্গে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট সতর্ক করে বলেছেন, যে দেশগুলো ইরানের তেল কিনবে, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
এতে বোঝা যাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কঠোর অবস্থান নিচ্ছে। এই নীতির অংশ হিসেবেই ট্যাংকার জব্দের ঘটনাগুলো ঘটছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
ইরান ও ভেনেজুয়েলার তেল উভয়ই দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকেই এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার তেল জব্দের ঘটনাও একই ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে সম্ভাব্য চিত্র হলো, জব্দ করা ৩.৮ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি তেল যুক্তরাষ্ট্র আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যাবে এবং পরে তা বিক্রি করবে। এর ফলে তেলের আর্থিক সুবিধা ইরানের কাছে না গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই থাকবে।
এখন নজর থাকবে, এই তেল ঠিক কোথায় নেওয়া হয়, কখন তা বিক্রি করা হয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এর কী প্রভাব পড়ে।