{{ news.section.title }}
লেবাননে স্বর্ণসহ মালামাল লুটের অভিযোগ ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে
দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের বিরুদ্ধে স্বর্ণের বারসহ বেসামরিক সম্পদ লুটের অভিযোগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলি প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লেবাননের বিভিন্ন বাড়ি, দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে মূল্যবান সামগ্রী নেওয়ার অভিযোগ করেছেন খোদ ইসরায়েলি সেনারাই।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক রিজার্ভ সেনা হারেৎজকে জানান, তিনি তার এক সহকর্মীকে স্বর্ণের বার চুরি করতে দেখেছেন। পরে তিনি বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
হারেৎজ জানায়, শুধু স্বর্ণ নয়, দক্ষিণ লেবাননের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট থেকে মোটরসাইকেল, টেলিভিশন, কার্পেট, সোফা, পেইন্টিং এবং বিভিন্ন ব্যক্তিগত মালামাল নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। কয়েকজন সেনার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, বরং বহু এলাকায় নিয়মিতভাবে ঘটেছে।
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, মাঠপর্যায়ের কিছু কমান্ডার এসব বিষয়ে অবগত ছিলেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেননি। এতে সেনাবাহিনীর শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর চিফ অব স্টাফ আইয়াল জামির সামরিক পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সীমান্ত দিয়ে যাতায়াত করা সামরিক যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফেরা সেনাদের বহনকারী যানও নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যেকোনো যুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। বিশেষ করে যখন অভিযোগ আসে নিজেদের সেনাদের কাছ থেকেই, তখন তা আরও গুরুত্ব পায়। হারেৎজের প্রতিবেদন সেই কারণেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে চলমান সংঘাতে বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার তথ্যে বলা হয়েছে, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও মাঝে মাঝে গোলাবর্ষণ ও বিমান হামলার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, যুদ্ধক্ষেত্রে বেসামরিক সম্পদ দখল বা লুট আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ অস্বীকার বা নিশ্চিত করে পূর্ণ বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে তদন্ত শুরু হওয়ায় বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের পাশাপাশি সেনা আচরণ, যুদ্ধনৈতিকতা এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন আবারও সামনে চলে এসেছে।