{{ news.section.title }}
তেল উৎপাদক দেশগুলোর সবথেকে বড় জোট 'ওপেক' ছাড়ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত
বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা দিতে পারে এমন এক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দীর্ঘদিনের সদস্যপদ ত্যাগ করে দেশটি তেল উৎপাদনকারী জোট ওপেক ও ওপেক প্লাস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা ইতোমধ্যে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই সিদ্ধান্ত দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংগঠনে থাকা অবস্থায় আমিরাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছে। তবে এখন জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সময় এসেছে।
এই সিদ্ধান্ত ওপেক জোটের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, সংযুক্ত আরব আমিরাত দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল। তাদের বিদায় ওপেকের ঐক্য ও কার্যকারিতাকে দুর্বল করে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। এতদিন বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক ইস্যু ও উৎপাদন কোটা নিয়ে মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও ওপেক একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করেছে।
আমিরাতের জ্বালানি মন্ত্রী সুহাইল মোহাম্মদ আল মাজরুই জানান, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জ্বালানি নীতি বিশ্লেষণ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতোমধ্যেই চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস পরিবহনে নানা ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। এই সংকটের মধ্যেই আমিরাতের এমন সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে ওপেকের সমালোচনা করে অভিযোগ করেছিলেন, তারা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়িয়ে অন্য দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করে। একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির সঙ্গে তেলের মূল্যনীতির সম্পর্কের কথাও উল্লেখ করেছিলেন।
সংযুক্ত আরব আমিরাত ১৯৬৭ সালে আবুধাবির মাধ্যমে প্রথম ওপেকের সদস্য হয় এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে সংগঠনে যোগ দেয়। দীর্ঘ এই সময়ের মধ্যে দেশটি তেল উৎপাদন ও বাজার নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জি বলছে, প্রতিদিন প্রায় ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতাসম্পন্ন একটি দেশকে হারানো ওপেকের জন্য বড় ক্ষতি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, কম খরচে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো এখন কোটা ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে নিজেদের উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী হয়ে উঠছে, যা জোটের ভবিষ্যৎ কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
একই সঙ্গে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনৈতিক ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেন সংকট ও লোহিত সাগর অঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে তেলের বাজারে মূল্য স্থিতিশীলতা বজায় রাখা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।