ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ৯

ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ৯
ছবির ক্যাপশান, ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক হামলা, নিহত ৯

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে গত দুই সপ্তাহের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ রুশ বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। হামলায় বহু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা আশ্রমেও আগুন লাগে।

সোমবার (১৫ জুন) ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যেই এই আক্রমণের ঘটনা ঘটল।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় রাতভর বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার ফলে আবাসিক এলাকা ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। জরুরি উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কিয়েভ পেচেরস্ক লাভরা আশ্রম ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির অর্থোডক্স খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানী কিয়েভে এই মাত্রার হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতির আরও অবনতির ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যেই হামলার ঘটনা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেন ও রাশিয়ার নেতাদের সঙ্গে পৃথক টেলিফোন আলাপ করেন। আলোচনায় যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার অভ্যন্তরে একাধিক কৌশলগত স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা এবং তুলা অঞ্চলের আজট রাসায়নিক কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে।

 

জেলেনস্কির দাবি, এসব স্থাপনা রাশিয়ার জ্বালানি মজুত এবং সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি রাশিয়ার দখলে থাকা ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের সামরিক সরবরাহ ও লজিস্টিকস কেন্দ্রগুলোতেও আঘাত হানা হয়েছে বলে তিনি জানান।

 

রাশিয়া ইউক্রেনের কিছু হামলার বিষয় আংশিকভাবে স্বীকার করেছে। ইয়ারোস্লাভ অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় একটি জ্বালানি সংরক্ষণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিরাপত্তার কারণে কিছু সড়ক যোগাযোগও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

অন্যদিকে তুলা অঞ্চলের গভর্নর জানান, ভূপাতিত ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের ভেতরে পড়ে ক্ষয়ক্ষতি ঘটিয়েছে। তবে হামলার পূর্ণাঙ্গ প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

 

এদিকে যুদ্ধ বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে। ক্রেমলিনের দাবি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ও রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের টেলিফোন আলাপে যুদ্ধ অবসানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

 

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার টেলিফোন আলাপ হয়েছে। এতে যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

তবে একদিকে শান্তি আলোচনার প্রচেষ্টা চললেও অন্যদিকে পাল্টাপাল্টি হামলা ও হতাহতের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ এবং অনিশ্চিত।


সম্পর্কিত নিউজ