{{ news.section.title }}
শুক্রবার স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে 'যুক্তরাষ্ট্র-ইরান' শান্তি চুক্তি, কী আছে ভেতরে?
চার মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের পর অবশেষে শান্তির পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। উভয় দেশ একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সম্মত হয়েছে, যা আনুষ্ঠানিকভাবে আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই চুক্তিকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের কর্মকর্তারা পৃথকভাবে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া এই সমঝোতায় যুদ্ধবিরতি, সামুদ্রিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিবালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সমঝোতার ভিত্তিতে সব ধরনের সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধ হবে। এর আওতায় লেবাননসহ সংশ্লিষ্ট সব ফ্রন্টে যুদ্ধ কার্যক্রমের স্থায়ী সমাপ্তি ঘটবে। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধও তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।
অন্যদিকে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ঘোষণা দেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালি আবারও জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হবে। এর ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য একটি "নতুন যুগের" সূচনা করতে পারে। তার মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় এবং আঞ্চলিক অংশীদারদের সহযোগিতার ফলেই এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।
সংঘাতটি শুরু হয়েছিল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যখন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। এরপর পরিস্থিতি দ্রুত বিস্তৃত হয়ে আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নেয়। এর প্রভাব পড়ে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের দাম বেড়ে যায় এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রকাশিত খসড়া তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তিতে মোট ১৪টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, ৩০ দিনের মধ্যে নৌ অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার, ইরানের চারপাশে মোতায়েন মার্কিন বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা।
খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করা হতে পারে এবং আগামী ৬০ দিনের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের জব্দকৃত সম্পদের একটি অংশ মুক্ত করার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব শর্তের সবকিছু এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তিনিই প্রথম প্রকাশ্যে জানান যে উভয় পক্ষ সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে। তিনি কাতার, সৌদি আরব ও তুরস্কের ভূমিকাকেও প্রশংসা করেছেন।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। দেশটির মতে, এই সমঝোতা শুধু আঞ্চলিক শান্তিই নয়, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, সবচেয়ে জটিল বিষয় অর্থাৎ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এখনো চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। আগামী ৬০ দিনের আলোচনাই নির্ধারণ করবে এই শান্তি উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে কতটা সফল হবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ১৯ জুন জেনেভায় অনুষ্ঠিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন এক অধ্যায়ে প্রবেশ করবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান।