আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে গত কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে উল্লেখযোগ্য ওঠানামা দেখা গেছে। গত সপ্তাহের শুরুতে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৮ ডলারের ঘরে থাকলেও সংঘাত বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ঝুঁকির আশঙ্কায় তা ৮৭ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

পরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানসংক্রান্ত প্রাথমিক সমঝোতার খবরে দাম কিছুটা কমলেও বাজার এখনো পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড ৮৩ ডলারের ওপরে এবং ডব্লিউটিআই ৮১ ডলারের ঘরে অবস্থান করছে। বিশ্লেষকদের মতে, কয়েক দিনের ব্যবধানে তেলের বাজারে এমন অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।

 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা ঘিরে অনিশ্চয়তায় আবার বাড়ল তেলের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত প্রাথমিক সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ এখনো প্রকাশ না হওয়া এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে-এমন আশঙ্কায় নতুন করে বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৬ জুন) আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৮৩ দশমিক ৪২ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ৪৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ৮১ দশমিক ১২ ডলারে।

 

এর আগে সোমবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে একটি প্রাথমিক সমঝোতার ঘোষণা এলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা যায়। তখন ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য ৪ শতাংশের বেশি কমে প্রায় ৮৩ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে আসে। তবে সেই পতন স্থায়ী হয়নি। মাত্র এক দিনের ব্যবধানে আবারও বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।

 

জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত সমঝোতা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে এবং এর আওতায় ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা, সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচল ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কী পরিবর্তন আসবে-সেসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য নেই। ফলে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

 

বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরান, সৌদি আরব, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারের জ্বালানি রপ্তানির জন্য এই প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সেখানে যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি বা পরিবহন বিঘ্ন আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলে।

 

বাজার পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সমঝোতার পরও হরমুজ প্রণালিতে বীমা ব্যয়, জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা এবং সরবরাহ শৃঙ্খল পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে। এ কারণেই তেলের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

এদিকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ইলেকট্রনিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নথিটিতে ট্রাম্প, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ স্বাক্ষর করেছেন।

 

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে আগ্রহী ছিলেন, কারণ তিনি এই প্রক্রিয়ার সফল সমাপ্তিতে নিজের ভূমিকার রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরতে চেয়েছেন।

 

অন্যদিকে ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ করেনি। ফলে বাজারে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি চুক্তির আওতায় ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়, তাহলে আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ যোগ হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়িত হতে সময় লাগবে।

 

এছাড়া বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মজুতের সর্বশেষ তথ্য, ওপেক প্লাসের উৎপাদন নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিপ্রকৃতির দিকেও রয়েছে। কারণ মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি শান্ত হলেও সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যই শেষ পর্যন্ত তেলের বাজারের ভবিষ্যৎ দিক নির্ধারণ করবে।

 

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক পরিবহন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার বাস্তব চিত্র পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে আগামী দিনগুলোতে তেলের দামে আরও ওঠানামা দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


সম্পর্কিত নিউজ