{{ news.section.title }}
মালয়েশিয়ায় ৩৫ হাজার লিটার ডিজেল মজুত, দোষী বাংলাদেশি যুবক
মালয়েশিয়ায় অনুমোদনহীনভাবে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুদের অভিযোগে দুই বছর পলাতক থাকার পর অবশেষে আদালতে নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন এক বাংলাদেশি নাগরিক। দেশটির মেলাকা অঙ্গরাজ্যের আয়ের কেরোহ সেশনস আদালতে সোমবার (১৫ জুন) ৪২ বছর বয়সী আলতাফ আজিজ কাদের নামের ওই বাংলাদেশিকে হাজির করা হলে তিনি অভিযোগের দায় স্বীকার করেন।
মালয়েশিয়ার স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, পুলিশি জামিনে মুক্ত থাকার পর দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন আলতাফ। সম্প্রতি তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার করা হলে আদালতে তোলা হয়। বিচারক রাজা নূর আদিলা রাজা মাহিয়ালদিনের আদালতে দোভাষীর মাধ্যমে অভিযোগনামা পড়ে শোনানো হলে তিনি দোষ স্বীকার করেন।
শুনানির সময় তার পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। একই সঙ্গে আদালত তার জামিন আবেদনও খারিজ করে দেন। ফলে পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত তাকে হেফাজতেই থাকতে হবে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর বিকেল প্রায় ৩টার দিকে মেলাকার ক্রুবং শিল্প এলাকার জালান পিকে-২০ এলাকায় অবস্থিত একটি গুদামে অভিযান চালায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অভিযানে সেখানে বিপুল পরিমাণ ডিজেল মজুদের প্রমাণ পাওয়া যায়।
তদন্তে উঠে আসে, আলতাফ আজিজ কাদের আরও দুই সহযোগীর সঙ্গে মিলে মোট ৩৫ হাজার ৬৫৩ লিটার ডিজেল অবৈধভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন। অথচ ওই জ্বালানি সংরক্ষণ ও বাণিজ্যের জন্য তাদের কাছে কোনো বৈধ খুচরা বা পাইকারি লাইসেন্স ছিল না।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার ১৯৬১ সালের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ আইনের (Control of Supplies Act 1961) ২১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। দণ্ডবিধির ৩৪ ধারার সঙ্গে সমন্বয় করে একই আইনের ২২(১) ধারায় মামলাটি পরিচালিত হচ্ছে, যা দেশটির আইনে গুরুতর অর্থনৈতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
মেলাকা অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য ও জীবনযাত্রার ব্যয় মন্ত্রণালয়ের প্রসিকিউশন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আশরাফ নাশরুদ্দিন ও নূরহিশাম মোহাম্মদ নূর মামলাটি পরিচালনা করছেন।
আদালত আগামী ২৯ জুন মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। ওই দিন মামলার পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি আলতাফের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সাজা ঘোষণা করা হতে পারে।
মালয়েশিয়ার আইন অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রিত জ্বালানি অবৈধভাবে মজুদ বা সংরক্ষণের অপরাধে প্রথমবার দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ১০ লাখ মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত জরিমানা, তিন বছরের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে বাংলাদেশি এই নাগরিকের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের জরিমানা কিংবা কারাদণ্ড-উভয় ধরনের শাস্তিরই সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।