যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পরও বাস্তুচ্যুতদের দেশে ফিরতে সতর্কবার্তা, দক্ষিণ লেবাননে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পরও বাস্তুচ্যুতদের দেশে ফিরতে সতর্কবার্তা, দক্ষিণ লেবাননে অনিশ্চয়তা
ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পরও বাস্তুচ্যুতদের দেশে ফিরতে সতর্কবার্তা, দক্ষিণ লেবাননে অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন সমঝোতা চুক্তি ঘোষণার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কিছুটা কমার আশা তৈরি হলেও দক্ষিণ লেবাননের বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের এখনই নিজ বাড়িতে ফিরে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। কারণ ইসরাইল স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।

সোমবার (১৫ জুন) আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক সংঘাতের সবচেয়ে বড় মানবিক মূল্য দিতে হয়েছে লেবাননকে। গত ২ মার্চ ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাতকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ইসরাইলি সামরিক অভিযানে হাজার হাজার মানুষ নিহত হন এবং প্রায় ১২ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েন।

 

এরই মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি হয়েছে। সোমবার ভোরে ঘোষিত ওই চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে সামরিক অভিযান অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

তবে চুক্তি ঘোষণার পরও দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন পৌরসভা স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে সতর্কতামূলক বিবৃতি দিয়েছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখনও অনিশ্চিত থাকায় বাস্তুচ্যুতদের তাড়াহুড়ো করে নিজ এলাকায় ফিরে না যাওয়াই উত্তম। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ইসরাইলি বাহিনী এখনো অবস্থান করছে, সেখানে ঝুঁকি রয়ে গেছে।

 

বৈরুতের হামরা এলাকায় আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত নারী মোনা মাজেহর বলেন, তিনি এখনই নিজের গ্রামে ফেরার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না। তার ভাষায়, পরিস্থিতি নিয়ে এখনো অনেক অনিশ্চয়তা রয়েছে এবং ইসরাইলের অবস্থানের কারণে তারা উদ্বিগ্ন।

 

এদিকে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছেন, তার দেশ দক্ষিণ লেবানন, গাজা ও সিরিয়ার বিভিন্ন নিরাপত্তা অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরান বা তাদের মিত্রদের পক্ষ থেকে নতুন হামলা হলে তার জবাব দেওয়া হবে।

 

চুক্তি নিয়ে হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দলটির রাজনৈতিক মিত্র এবং লেবাননের সংসদ স্পিকার নাবিহ বেরি চুক্তিটিকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

 

নাবিহ বেরি এক বিবৃতিতে বলেন, এই সমঝোতা লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ভিত্তি গড়ে দিতে পারে। তিনি চুক্তিতে লেবাননের ওপর ইসরাইলি হামলা বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

 

অন্যদিকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতেও দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন গ্রামে ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও অবকাঠামো ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে। ইসরাইলের দাবি, তারা বেসামরিক এলাকায় অবস্থান নেওয়া হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের লক্ষ্য করেই এসব অভিযান পরিচালনা করছে।

 

তবে সংঘাতের কারণে কয়েক লাখ লেবানিজ নাগরিক এখনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আশ্রয় নিয়ে মানবিক সংকটের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। ফলে যুদ্ধবিরতি বা রাজনৈতিক সমঝোতার ঘোষণা এলেও বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবেই রয়ে গেছে।


সম্পর্কিত নিউজ