গাজায় নতুন ইসরাইলি হামলায় নিহত আরও ৬ ফিলিস্তিনি

গাজায় নতুন ইসরাইলি হামলায় নিহত আরও ৬ ফিলিস্তিনি
ছবির ক্যাপশান, গাজায় নতুন ইসরাইলি হামলায় নিহত আরও ৬ ফিলিস্তিনি

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ হামলায় অন্তত ছয় ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় আলোচনা চললেও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ইস্যুতে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সময় রোববার (১৪ জুন) গাজার উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। হামলায় একাধিক হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।

 

এছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এবং গাজা সিটির বিভিন্ন এলাকায় পৃথক গোলাগুলি ও সামরিক অভিযানে আরও কয়েকজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ফলে নতুন করে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।

 

গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলমান সংঘাতের কারণে উপত্যকার মানবিক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। চিকিৎসা ব্যবস্থা, খাদ্য সরবরাহ এবং আশ্রয় সংকটের মধ্যে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের মুখোমুখি।

 

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। মিশর, কাতার এবং তুরস্কের মধ্যস্থতায় হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর সঙ্গে সপ্তাহব্যাপী আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আলোচনার মূল বিষয় ছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত গাজা পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন। এতে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

 

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, ১৫ দফা প্রস্তাবের মধ্যে ১৪টি বিষয়ে নীতিগতভাবে অগ্রগতি হয়েছে। তবে হামাসের অস্ত্র সমর্পণের প্রশ্নে এখনো দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে।

 

হামাসের অবস্থান হলো, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সুস্পষ্ট রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু না হলে তারা পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হবে না। সংগঠনটির মতে, রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া অস্ত্র ত্যাগ করা সম্ভব নয়।

 

অন্যদিকে ইসরাইলের দাবি, হামাসকে সম্পূর্ণভাবে অস্ত্র ত্যাগ করতে হবে এবং গাজার প্রশাসনিক ও সামরিক কাঠামো থেকে সরে দাঁড়াতে হবে। ভবিষ্যৎ শাসন ব্যবস্থায় হামাসের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত নয় বলেও অবস্থান নিয়েছে তেল আবিব।

 

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকার ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করে আসছে। ফলে যুদ্ধবিরতির পরবর্তী ধাপ এবং দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।

 

এদিকে গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭৩ হাজার ছাড়িয়েছে। আহত হয়েছেন এক লাখ ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ।


সম্পর্কিত নিউজ