{{ news.section.title }}
সোমবার পদত্যাগ করতে পারেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে ঘিরে দেশটির রাজনীতিতে নতুন করে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর একাধিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভেতরে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে স্টারমার আগামী সোমবার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিতে পারেন। এমনকি তিনি পদত্যাগের সময়সূচিও প্রকাশ করতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এসব খবরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য অবজারভার জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মন্ত্রিসভার সদস্য, দলীয় নেতা, ট্রেড ইউনিয়ন প্রতিনিধি, উপদেষ্টা এবং দলের অর্থদাতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের পর স্টারমার উপলব্ধি করেছেন যে তার নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখা আগের তুলনায় অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি ব্যক্তিগতভাবে এখন নিজের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাভাবনা করছেন এবং ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করছেন।
তবে পরিস্থিতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, স্টারমারের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো এখনো দাবি করছে যে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেননি এবং সরকারের কাজ পরিচালনায় মনোযোগী রয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডাউনিং স্ট্রিটের একটি সূত্র জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রী এখনো সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছেন এবং চলমান রাজনৈতিক জল্পনা-কল্পনার বাইরে থাকার চেষ্টা করছেন।
কেন বাড়ছে চাপ?
২০২৪ সালের নির্বাচনে বড় বিজয়ের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর স্টারমারের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমতে শুরু করে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, একাধিক নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন, দলীয় অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং সাম্প্রতিক কিছু বিতর্ক তার নেতৃত্বকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। গত কয়েক মাস ধরে লেবার পার্টির ভেতরেই তার বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছিল।
ব্রিটিশ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় নির্বাচন এবং উপনির্বাচনগুলোতে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়া স্টারমারের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। বিশেষ করে মে মাসের নির্বাচনগুলোকে অনেকেই তার নেতৃত্বের ওপর গণভোট হিসেবে দেখেছেন। ওই নির্বাচনের পর থেকেই লেবার পার্টির বহু এমপি প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ দাবি করতে শুরু করেন।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিরক্ষা ব্যয়, অর্থনৈতিক পরিকল্পনা এবং সরকারের অগ্রাধিকার নিয়ে দলের ভেতরের বিতর্ক। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের একটি অংশও প্রকাশ্যে স্টারমারের নীতির সমালোচনা করেছেন।
অ্যান্ডি বার্নহ্যামের উত্থান
স্টারমারের ওপর চাপ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক সাফল্যকে। মেকারফিল্ড উপনির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর তিনি আবারও জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন। লেবার পার্টির ভেতরে অনেকেই এখন তাকে স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন।
বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, লেবার পার্টির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে বার্নহ্যামের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তার সমর্থকদের মতে, দলকে নতুন করে সংগঠিত করা এবং আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে বার্নহ্যামই সবচেয়ে শক্তিশালী বিকল্প।
যদিও বার্নহ্যাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নেতৃত্বের জন্য প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেননি, তবুও তার ঘনিষ্ঠদের মধ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে সক্রিয় আলোচনা চলছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমে এমন খবরও এসেছে যে, পরিস্থিতি আরও জটিল হলে কয়েকজন জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী পদত্যাগ করে স্টারমারের ওপর চাপ বাড়াতে পারেন।
লেবার পার্টির ভেতরে বিভক্তি
দলের ভেতরে এখন দুটি স্পষ্ট অবস্থান দেখা যাচ্ছে। এক পক্ষ মনে করছে, স্টারমারের নেতৃত্বে দল আগামী নির্বাচনে কাঙ্ক্ষিত ফল পাবে না এবং দ্রুত নেতৃত্ব পরিবর্তন প্রয়োজন। অন্য পক্ষের যুক্তি, ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় হঠাৎ নেতৃত্ব পরিবর্তন দলকে আরও বড় সংকটে ফেলতে পারে।
দলের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রকাশ্যে না বললেও ব্যক্তিগত আলোচনায় নেতৃত্ব পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে শ্রমিক সংগঠনগুলোর একটি অংশও নতুন নেতৃত্বের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
কী হতে পারে আগামী সপ্তাহে?
বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে সোমবার। অবজারভারসহ একাধিক ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের দাবি, ওই দিন স্টারমার তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানাতে পারেন। যদি তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন, তাহলে লেবার পার্টির নেতৃত্ব নির্বাচন এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী নির্ধারণের প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে।
তবে এখনো বিষয়টি নিশ্চিত নয়। কারণ স্টারমার অতীতেও একাধিকবার বলেছেন যে তিনি দলের নেতৃত্ব ছাড়তে চান না এবং সামনে তার অনেক কাজ বাকি রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠরা বলছেন, তিনি এখনো লড়াই চালিয়ে যেতে আগ্রহী এবং সম্ভাব্য নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতিও নিচ্ছেন।
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বড় মোড়ের অপেক্ষা
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, আগামী কয়েকদিন যুক্তরাজ্যের রাজনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে। কিয়ার স্টারমার পদত্যাগ করলে শুধু লেবার পার্টিই নয়, পুরো ব্রিটিশ রাজনৈতিক অঙ্গন নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি হবে। আর যদি তিনি পদে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে দলীয় বিদ্রোহ ও নেতৃত্ব সংকট আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ফলে বর্তমানে ওয়েস্টমিনস্টারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই-কিয়ার স্টারমার কি সত্যিই সরে দাঁড়াবেন, নাকি অভ্যন্তরীণ চাপ উপেক্ষা করে লেবার পার্টির নেতৃত্ব ধরে রাখার শেষ লড়াই চালিয়ে যাবেন? সেই উত্তর মিলতে পারে আগামী সপ্তাহেই।