যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠকে যাচ্ছে না ইরান, কারণ কী

যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠকে যাচ্ছে না ইরান, কারণ কী
ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি বৈঠকে যাচ্ছে না ইরান, কারণ কী

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনায় আপাতত অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে ইরান। পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তেহরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইআরএনএ বলেছে, ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার বৈঠক নিয়ে যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে, তা সঠিক নয়। ইরানের এই অবস্থান এমন সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মার্কিন আলোচকরা পাকিস্তানে যাচ্ছেন।

আইআরএনএ জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন আলোচনায় না বসার পেছনে তেহরানের কয়েকটি বড় আপত্তি রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমটির ইংরেজি এক্স অ্যাকাউন্টে দেওয়া পোস্টের বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইরান ওয়াশিংটনের অতিরিক্ত দাবি, অবাস্তব প্রত্যাশা, অবস্থান বদল, স্ববিরোধী নীতি এবং চলমান নৌ অবরোধকে আলোচনার পথে প্রধান বাধা হিসেবে দেখছে। ইরানের মতে, এসব পরিস্থিতিতে গঠনমূলক আলোচনা সফল হওয়ার সুযোগ নেই।

আলোচনায় না যাওয়ার পাঁচ কারণ

১. যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি
তেহরানের অভিযোগ, ওয়াশিংটন আলোচনার আগে এমন সব শর্ত দিচ্ছে, যা বাস্তবসম্মত নয় এবং একতরফা চাপ তৈরির অংশ।

২. ইরানের প্রতি অবাস্তব প্রত্যাশা
ইরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র এমন প্রত্যাশা করছে, যা তেহরানের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

৩. বারবার অবস্থান পরিবর্তন
আইআরএনএর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার আগে ও পরে নিজের অবস্থান বদলাচ্ছে, যা আস্থার সংকট তৈরি করছে।

৪. স্ববিরোধী নীতি
তেহরান মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে সামরিক চাপ ও অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। এই দ্বৈত অবস্থান আলোচনাকে দুর্বল করছে।

৫. হরমুজ ও ইরানি বন্দর ঘিরে নৌ অবরোধ
ইরানের সবচেয়ে বড় আপত্তির একটি হলো যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ। তেহরানের দাবি, যুদ্ধবিরতির সময়ও অবরোধ চালু রাখা কার্যত যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গের শামিল। রয়টার্সের আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরমুখী বা ইরানি বন্দর থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর অবরোধ কার্যকর করার কথা জানিয়েছে, তবে ইরানবহির্ভূত গন্তব্যে হরমুজ দিয়ে যাওয়া জাহাজ চলাচলে বাধা দেওয়া হবে না।

 

এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, ট্রাম্প বলেছেন মার্কিন আলোচকরা পাকিস্তানে যাচ্ছেন এবং সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে ইরানের তাসনিম নিউজ বলেছে, পাকিস্তানে প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়ে তেহরান এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। অর্থাৎ ওয়াশিংটন আলোচনার সম্ভাবনা সামনে আনলেও তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে সেটি নিশ্চিত করছে না।

 

এর আগে ১১ ও ১২ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে চলা সেই বৈঠক কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়। আলোচনায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ, হরমুজ প্রণালি, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা এবং জব্দ সম্পদসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে। বৈঠক ভেঙে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ জোরদার করে, যা এখন দ্বিতীয় দফার আলোচনার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

 

নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে একটি জাহাজ জব্দের ঘটনাও। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, ইরানের একটি জাহাজ অবরোধ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল  পরে সেটি আটক করা হয়। ইরান এই ঘটনাকে ‘সশস্ত্র দস্যুতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

 

তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। সিনহুয়া জানিয়েছে, সম্ভাব্য নতুন বৈঠক ঘিরে কূটনৈতিক যোগাযোগ চললেও সময়সূচি ও অংশগ্রহণ নিয়ে স্পষ্টতা নেই। অন্যদিকে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সূত্র ইরানের অংশগ্রহণ প্রত্যাখ্যানের কথা বললেও অন্য কিছু প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, তেহরান এখনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেনি। তাই পরিস্থিতি এখনো পরিবর্তনশীল।

 


সম্পর্কিত নিউজ