ইরানের ‘না’, অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদ বৈঠক

ইরানের ‘না’, অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদ বৈঠক
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

ইরান সোমবার ইঙ্গিত দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। ফলে যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে বহুদিনব্যাপী আলোচনার জন্য পাকিস্তানের যে উদ্যোগ ছিল, তা যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে হুমকির মুখে পড়েছে।

ইরান সোমবার স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে কোনো প্রতিনিধি পাঠানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। এতে করে যুদ্ধরত দুই দেশের মধ্যে বহুদিনব্যাপী আলোচনার যে উদ্যোগ পাকিস্তান নিয়েছিল, তা যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার ৪৮ ঘণ্টারও কম সময় আগে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

 

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি অভিযোগ করেছেন, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্র তা লঙ্ঘন করেছে। তিনি ১৩ এপ্রিল থেকে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ এবং রাতের মধ্যে একটি ইরানি কনটেইনার জাহাজ আটক করার ঘটনাকে যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল নতুন করে আগ্রাসন চালালে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী “যথাযথ জবাব” দেবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনার আগে জমা দেওয়া তেহরানের ১০ দফা প্রস্তাবই যেকোনো আলোচনার ভিত্তি থাকবে। বাঘায়ি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না, এবং এতে কখনোই ভালো ফল আসবে না।” তিনি আরও জানান, এসব লঙ্ঘনের বিষয় পাকিস্তানকে অবহিত করা হয়েছে, যারা এই প্রক্রিয়ার প্রধান মধ্যস্থতাকারী।

 

পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা এখনো সতর্ক আশাবাদী যে দুই পক্ষকে আবার আলোচনার টেবিলে আনা সম্ভব। ইসলামাবাদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনা আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার লক্ষ্য চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো। তবে সাম্প্রতিক ঘণ্টাগুলোতে উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে আলোচনার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে।

 

১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত প্রথম দফার আলোচনার তুলনায় এবার পাকিস্তান চায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যেন একাধিক দিনের আলোচনায় অংশ নেয়। লক্ষ্য হলো একটি অস্থায়ী চুক্তি-যাকে মধ্যস্থতাকারীরা সমঝোতা স্মারক (MoU) বলছেন-স্বাক্ষরের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি কার্যত বাড়ানো। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, এমন চুক্তি হলে আলোচকদের কাছে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তি সম্পন্ন করার জন্য ৬০ দিন পর্যন্ত সময় পাওয়া যেতে পারে। তবে এসবই নির্ভর করছে ইরানের অংশগ্রহণের ওপর, আর ইরান ইতোমধ্যেই জানিয়েছে যে গত ২৪ ঘণ্টার উত্তেজনা বৃদ্ধির পর তারা আলোচনায় বসার কোনো পরিকল্পনা করছে না।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ঘোষণা দেন, তার প্রতিনিধিরা ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য পাকিস্তানে যাচ্ছেন, যখন বুধবার শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতি সময়সীমার দিকে এগোচ্ছে। তবে একই সঙ্গে তিনি ইরানের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, “আমার প্রতিনিধিরা ইসলামাবাদে যাচ্ছে, তারা আগামীকাল সন্ধ্যায় সেখানে থাকবে আলোচনার জন্য।” তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার হরমুজ প্রণালিতে ইরানি গানবোটগুলো জাহাজে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, যাতে একটি ফরাসি জাহাজ ও একটি ব্রিটিশ মালবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দেন, “আমরা খুবই ন্যায্য একটি চুক্তির প্রস্তাব দিচ্ছি। তারা তা গ্রহণ না করলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং প্রতিটি সেতু ধ্বংস করে দেবে। আর কোনো ভদ্রতা নয়।”

 

রাতভর উত্তেজনা অব্যাহত থাকে। সোমবার ভোরে ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার ইউএসএস স্প্রুয়ান্স ওমান উপসাগরে প্রায় ৯০০ ফুট দীর্ঘ ইরানি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজ ‘তুসকা’কে থামায়, যখন সেটির ক্রু সতর্কতা অমান্য করে। ট্রাম্প বলেন, মার্কিন নৌজাহাজটি ইঞ্জিন রুমে আঘাত করে জাহাজটিকে থামিয়ে দেয় এবং বর্তমানে মার্কিন মেরিন সদস্যরা জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তার দাবি, জাহাজটি পূর্বের অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। তবে ইরান এই ঘটনাকে ‘দস্যুতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

 

এই সামরিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তান আলোচনার আয়োজনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামাবাদের ম্যারিয়ট হোটেল রোববার বিকেলের মধ্যে অতিথিদের কক্ষ খালি করতে বলে এবং কাছাকাছি সেরেনা হোটেল, যেখানে প্রথম দফার আলোচনা হয়েছিল, তারাও একই নির্দেশ দেয়। রাজধানীর সবচেয়ে সুরক্ষিত এলাকা ‘রেড জোন’-এ যাওয়ার সব রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই এলাকায় জাতীয় পরিষদ, বিদেশি দূতাবাস এবং পাঁচতারকা হোটেলগুলো অবস্থিত। দেশজুড়ে থেকে হাজার হাজার অতিরিক্ত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনী মোতায়েন করা হয়। রাস্তার পাশে কাঁটাতারের বেড়া ও ব্যারিকেড বসানো হয় এবং অধিকাংশ প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়।

 

তবে ট্রাম্পের নতুন হুমকি ও জাহাজ আটক হওয়ার আগেই তেহরান নিশ্চিত ছিল না যে তারা আলোচনায় যোগ দেবে কি না। ট্রাম্পের পোস্টের কিছুক্ষণ আগে পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন, অব্যাহত নৌ অবরোধ, নতুন হামলার হুমকি এবং অযৌক্তিক দাবির সঙ্গে প্রকৃত শান্তির প্রচেষ্টা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি বলেন, “যতক্ষণ নৌ অবরোধ থাকবে, ততক্ষণ সংকটও থাকবে।”

 

আলোচনায় অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদল নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ট্রাম্প প্রথমে বলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবার ইসলামাবাদে আসবেন না। তবে পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লেভিট জানান, ভ্যান্স প্রতিনিধি দলে যোগ দেবেন এবং তার সঙ্গে থাকবেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, যোগাযোগ সরঞ্জামসহ অন্তত চারটি মার্কিন সরকারি বিমান রোববার রাওয়ালপিন্ডির নুর খান ঘাঁটিতে অবতরণ করে। তবে রাতের দিকে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়-সূত্রগুলো জানায়, সম্ভবত প্রথমে উইটকফ ও কুশনার আসবেন এবং আলোচনা শুরু হলে পরে ভ্যান্স যোগ দিতে পারেন।

 

ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে প্রায় ৪৫ মিনিট কথা বলেন। তিনি সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এসব উদ্যোগ সংলাপ ও কূটনীতির পক্ষে ঐকমত্য গঠনে সহায়ক হয়েছে।

 

সোমবার সকাল নাগাদ ট্রাম্পের নতুন হুমকি ও জাহাজ আটক হওয়ার ঘটনায় আলোচনার সম্ভাবনা আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ইরান কঠোরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের সমালোচনা করে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার আলোচনার খবর সঠিক নয় এবং তারা অগ্রগতির অভাবের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘লোভ’, অযৌক্তিক দাবি, অবস্থান পরিবর্তন ও ধারাবাহিক বিরোধপূর্ণ বক্তব্যকে দায়ী করে। তারা আরও বলে, নৌ অবরোধ যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করেছে এবং এখন পর্যন্ত আলোচনায় অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ফলপ্রসূ আলোচনার কোনো স্পষ্ট সম্ভাবনা নেই বলেও তারা উল্লেখ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে ‘মিডিয়া খেলা’ বলে অভিহিত করে।

 

ইসমাইল বাঘাই হামানেহ এক্স-এ পোস্ট করে বলেন, এই নৌ অবরোধ ‘অবৈধ ও অপরাধমূলক’ এবং এটি ‘যুদ্ধাপরাধ ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ’।

 

যদিও প্রকাশ্যে অস্বীকার করা হচ্ছে, তবুও কিছু সূত্র জানিয়েছে যে মঙ্গলবার ইরানের একটি প্রতিনিধি দল পাকিস্তানে আসতে পারে। এতে পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের ঘালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি থাকতে পারেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরাঘচি ও পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ফোনে কথা বলে দ্রুত সমাধানের জন্য সংলাপ অব্যাহত রাখার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেছেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রকাশ্য কঠোর অবস্থান এবং ব্যক্তিগত পর্যায়ের নমনীয়তার মধ্যে এই পার্থক্য একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। তেহরানভিত্তিক বিশ্লেষক সাইয়েদ মোজতবা জালালজাদেহ বলেন, এটি একটি দ্বিমুখী আলোচনার কৌশল, যেখানে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান রেখে অভ্যন্তরীণ সমর্থন বজায় রাখা হয় এবং একই সঙ্গে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক পথ খোলা রাখা হয়। টাফটস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফাহদ হুমায়ুন বলেন, যুদ্ধরত পক্ষগুলোর আলোচনায় প্রকাশ্য বক্তব্য ও বাস্তব অবস্থানের মধ্যে এমন পার্থক্য স্বাভাবিক, এবং তারা সম্ভবত আগের অবস্থান থেকেই আলোচনা এগিয়ে নেবে।

 

আলোচনার গতি নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সমাধান চাইলেও ইরান ধীরগতিতে এগোতে চায়। ইসলামাবাদের এক কূটনীতিকের ভাষায়, “আমেরিকানরা যেন স্টপওয়াচ নিয়ে আসে, আর ইরানিরা ক্যালেন্ডার নিয়ে।”

 

এই সপ্তাহে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা কম, এমনকি ইরান আলোচনায় অংশ নিলেও। তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হতে পারে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং একটি সীমিত সমঝোতায় পৌঁছানো। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা সতর্ক আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, প্রক্রিয়াটি ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে, তবে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য সময় ও পারস্পরিক সমঝোতা প্রয়োজন। এই দফার আলোচনা কয়েকদিন ধরে চলতে পারে এবং ভবিষ্যতের বৃহত্তর আলোচনার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

 

ফাহদ হুমায়ুন বলেন, প্রথম দফার আলোচনা ব্যর্থ বলা ঠিক নয়, কারণ এত জটিল বিষয়ে দ্রুত সমাধান আশা করা অবাস্তব। তার মতে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোই এই দফার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হতে পারে। জালালজাদেহ বলেন, এটিই এই পর্যায়ে সবচেয়ে ন্যূনতম অর্জন হতে পারে, কারণ যুক্তরাষ্ট্র যে চুক্তি চায় তা অনেক বিস্তৃত এবং দীর্ঘ ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত।

 

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খতিবজাদেহ জানান, আগের দফার আলোচনায় “গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি” হয়েছিল, তবে এগোতে হলে একটি কাঠামো নির্ধারণ জরুরি। ঘালিবাফ বলেন, এখনো অনেক ফাঁক রয়ে গেছে এবং চূড়ান্ত সমাধান অনেক দূরে।

 

মূল বিরোধের বিষয়-ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ-এখনো অমীমাংসিত রয়েছে। যদিও ইসরায়েল-লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, বিশ্লেষকদের মতে তা সাময়িক, দুর্বল এবং অসম্পূর্ণ। এতে হিজবুল্লাহ অংশ নেয়নি, যা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মিত্র।

 

হুমায়ুন বলেন, ইরান চাইবে এই যুদ্ধবিরতি বজায় থাকুক এবং এর লঙ্ঘন না হওয়ার নিশ্চয়তা থাকুক। একই সঙ্গে বড় প্রশ্ন হলো, যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে কি না, যাতে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে চলে এবং নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি না করে।

 

পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা এ পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দেশটির সেনাপ্রধান আসিম মুনির তেহরান সফর করে ওয়াশিংটনের বার্তা পৌঁছে দেন। ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম বলেন, তারা পাকিস্তানের ওপর আস্থা রাখে এবং এখানেই আলোচনা করতে চায়।

 

বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তান দুই পক্ষের কাছেই গ্রহণযোগ্য একটি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। তবে জালালজাদেহ সতর্ক করে বলেন, এই দফার আলোচনাও ব্যর্থ হলে তাদের অবস্থান দুর্বল হতে পারে, যদিও তারা যোগাযোগের একটি মাধ্যম হিসেবে থাকবেন। তবুও অনেক দেশের তুলনায় পাকিস্তান ইতোমধ্যেই একটি নির্ভরযোগ্য মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজেদের আলাদা করে তুলেছে।

 

শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে বলেন, “চুক্তি হবেই-ভালোভাবে বা কঠোরভাবে।”

সূত্রঃ আল জাজিরা


সম্পর্কিত নিউজ