যুদ্ধবিরতি বাড়লেও ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল

যুদ্ধবিরতি বাড়লেও ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ বহাল
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান তাদের প্রস্তাব জমা দেওয়া এবং যুদ্ধ অবসানের শর্ত নিয়ে আলোচনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়াচ্ছে। এতে করে কূটনৈতিক পথ খোলা থাকলেও, একই সঙ্গে তেহরানের ওপর চাপ বজায় রাখা হচ্ছে।

তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ চালু থাকবে। অন্যদিকে, ইরান বলছে এই অবরোধ যুদ্ধবিরতির পরিপন্থী এবং এটি বজায় থাকলে তারা কোনো আলোচনায় বসবে না। তাদের মতে, হুমকির মধ্যে থেকে আলোচনা সম্ভব নয়, যা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে।

 

এদিকে অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা থামেনি। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় এক শিশুসহ দুজন নিহত হয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় বেসামরিক মানুষ আহত হয়েছে এবং ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে, যদিও সেখানে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি চলছে।

 

ইরানের ভেতরে পরিস্থিতি

ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, যদি পারস্য উপসাগরের কোনো দেশ থেকে হামলা চালানো হয়, তাহলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদন ব্যবস্থাই টার্গেট হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, যা তেহরানের মতে যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে। ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকারের এক উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন, এই যুদ্ধবিরতি বাড়ানো আসলে সময় নষ্ট করার কৌশল হতে পারে, যার আড়ালে সামরিক প্রস্তুতি চলছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাঘচি এই অবরোধকে সরাসরি “যুদ্ধ ঘোষণার সমান” বলে আখ্যা দিয়েছেন।

 

কূটনৈতিক তৎপরতা

তেহরান থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া না দিলেও আলোচনায় আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে হরমুজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিকে তারা যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং যেকোনো উত্তেজনার জবাব দিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অস্ত্র কর্মসূচি ঘিরে নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে, এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নও একই পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে দূত পর্যায়ের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম তার দেশের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারকে প্রধান লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরেছেন।

 

উপসাগরীয় অঞ্চল

ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে সম্ভাব্য মুদ্রা বিনিময় চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে। যুদ্ধের প্রভাবে আমিরাতের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকেই বিষয়টি উঠেছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান

হোয়াইট হাউস থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ট্রাম্প একদিকে আলোচনার সুযোগ রাখতে চান, অন্যদিকে কঠোর অবস্থানও বজায় রাখছেন। তিনি হরমুজ প্রণালীর অবরোধকে ইরানকে আলোচনায় আনতে চাপ হিসেবে ব্যবহার করছেন, তবে আলোচনায় অগ্রগতি না হলে সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। এই দ্বৈত অবস্থান আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি করলেও, বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এটিকে হিসেবি কৌশল হিসেবে দেখছেন।

 

ইসরায়েল

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অভিযান ইসরায়েলকে আরও শক্তিশালী করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তারা ইরানের সক্ষমতা কমিয়ে এনেছে এবং এতে আঞ্চলিক নতুন জোট গঠনের পথ খুলেছে।

 

লেবানন

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সালাম জানিয়েছেন, চলমান সংঘাতের মানবিক প্রভাব মোকাবিলায় প্রায় ৫৮৭ মিলিয়ন ডলার প্রয়োজন। এদিকে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একে অপরকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে। ইসরায়েলের দাবি, তাদের সেনাদের লক্ষ্য করে রকেট হামলা হয়েছে, যার জবাবে তারা পাল্টা আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বলছে, তাদের হামলা ছিল ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়া।

 

তেল ও বৈশ্বিক অর্থনীতি

হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ