{{ news.section.title }}
হরমুজ প্রণালীতে দুটি জাহাজ জব্দ করে ইরানের উপকূলে নিয়ে গেছে আইআরজিসি
হরমুজ প্রণালিতে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজ আটক করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর নৌ ইউনিট। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের তথ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটির নাম এমএসসি ফ্রান্সেসকা ও এপামিনোডস ।
আইআরজিসি জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়া চলাচল এবং নৌ-নেভিগেশন ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপের অভিযোগে জাহাজ দুটি জব্দ করা হয়েছে। তাদের দাবি, এসব কার্যক্রম হরমুজ প্রণালির সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল।
তবে জাহাজগুলোর মালিকানা, ক্রুদের অবস্থা কিংবা কী ধরনের পণ্য বহন করা হচ্ছিল-এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ঘটনাটি এমন সময় ঘটল, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। রয়টার্স বলছে, ট্রাম্পের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হরমুজে জাহাজ জব্দের ঘটনা উত্তেজনাকে নতুন মাত্রা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ বহাল রেখেছে, আর তেহরান এই অবরোধকে যুদ্ধবিরতি ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে।
এপি জানিয়েছে, একই দিনে আইআরজিসি হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে গুলি চালায় এবং এর মধ্যে দুটি জব্দ করে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টারও ওই এলাকায় বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার খবর জানায়। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, হরমুজে চলাচলকারী জাহাজগুলো এখন অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথগুলোর একটি। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহের বড় অংশ এই জলপথ দিয়ে যায়। ফলে এখানে সামান্য নিরাপত্তা সংকটও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম, শিপিং বীমা ব্যয় এবং পণ্য পরিবহনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এপি বলছে, প্রণালিটি ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে জ্বালানি বাজারে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম আবার ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
হরমুজ ঘিরে এই অচলাবস্থা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনাকেও আরও জটিল করে তুলছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন দফার আলোচনা আয়োজনের চেষ্টা চললেও তেহরান বলছে, মার্কিন নৌ অবরোধ বহাল থাকলে আলোচনার পরিবেশ নেই। অন্যদিকে ওয়াশিংটন দাবি করছে, ইরানকে আলোচনায় ফিরতে হলে হরমুজে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।