{{ news.section.title }}
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, শিশুসহ নিহত অন্তত ১২
যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার পরও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। দক্ষিণ লেবাননে সর্বশেষ হামলায় এক শিশুসহ অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে।
শুক্রবার নাবাতিয়েহ জেলার হাব্বুশ এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় অন্তত আটজন নিহত হন। আহত হন আরও আটজনের বেশি। আহতদের মধ্যে এক শিশু ও এক নারীও রয়েছেন।
লেবাননের সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে তল্লাশি চালাচ্ছেন। স্থানীয় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভয়াবহ বিমান হামলায় একটি আবাসিক এলাকা প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ফুটেজে কয়েকটি ভবন সম্পূর্ণ মাটির সঙ্গে মিশে যেতে দেখা গেছে। দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু হাব্বুশ নয়, একই দিনে দক্ষিণ লেবাননের অন্তত আরও ছয়টি এলাকায় হামলা চালায় ইসরায়েল। এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ আরও কয়েকজন হতাহত হন।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, টাইর ও নাবাতিয়েহর আশপাশের এলাকায় পৃথক হামলায় আরও চারজন নিহত হয়েছেন। একই দিনে ইসরায়েলি বাহিনী কয়েকটি বাড়িঘর, একটি কনভেন্ট এবং একটি স্কুলও ধ্বংস করেছে বলে জানানো হয়েছে।
হামলার আগে সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশ
হাব্বুশ গ্রামটি লিতানি নদীর উত্তরে অবস্থিত। শুক্রবার হামলার আগে ওই এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরায়েলি বাহিনী। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র আভিচাই আদরাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বাসিন্দাদের দ্রুত অন্তত এক হাজার মিটার দূরে সরে যেতে বলেন। এর কিছু সময় পরই ওই গ্রামে হামলা চালানো হয়। তবে স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগের দিনও ইসরায়েল একই এলাকায় হামলা চালিয়েছিল, তখন কোনো সতর্কতা দেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবারও লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।
বেসামরিক প্রাণহানি বাড়ছে
ইসরায়েল দাবি করছে, তাদের হামলার লক্ষ্য ইরানপন্থি লেবাননি সংগঠন হিজবুল্লাহ। তবে নিহতদের বড় অংশই বেসামরিক নাগরিক বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও মানবিক সংস্থাগুলোর তথ্য থেকে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ জানিয়েছে, তারা লেবাননের ভেতরে অবস্থানরত ইসরায়েলি বাহিনী ও সামরিক যানকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, তারা একটি মেরকাভা ট্যাংকসহ কয়েকটি সামরিক যান এবং টাইর এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইসরায়েল এখনো দক্ষিণ লেবাননের কিছু অংশ দখলে রেখেছে। এসব এলাকাকে তারা ‘বাফার জোন’ বলে উল্লেখ করছে।
যুদ্ধবিরতির পরও মৃত্যু ২ হাজার ৬০০ ছাড়াল
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৬১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮ হাজার ৯৪ জন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। পরে সেটি ১৭ মে পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তবে যুদ্ধবিরতি চললেও হামলা বন্ধ হয়নি। প্রতিদিনই দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ ও ধ্বংসযজ্ঞের খবর আসছে।
গাজা যুদ্ধ থেকে লেবানন ফ্রন্ট
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত সংঘাত শুরু হয়। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইসরায়েল লেবাননে হামলা জোরদার করে। সে সময় হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের নেতা হাসান নাসরাল্লাহ নিহত হন। এরপর ২০২৪ সালের নভেম্বরে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। তবে লেবাননের অভিযোগ, ইসরায়েল সেই যুদ্ধবিরতি বারবার লঙ্ঘন করেছে। পরে চলতি বছরের ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর হিজবুল্লাহ আবার ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির কাগুজে ঘোষণা থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে বাস্তবতা ভিন্ন। আবাসিক এলাকা, স্কুল, ধর্মীয় স্থাপনা ও সীমান্তবর্তী জনপদ বারবার হামলার মুখে পড়ছে। ফলে লেবাননে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা