{{ news.section.title }}
সিলেটে হামে এক দিনে ৩ শিশুর মৃত্যু
সিলেটে হাম ও নিউমোনিয়ার প্রকোপ দিন দিন উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। নতুন করে হাম ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এতে করে সিলেট বিভাগজুড়ে শিশুস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।
সোমবার (২৫ মে) বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম।
মৃত শিশুদের মধ্যে রয়েছে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার রমজান আলীর এক মাস বয়সী শিশু মহসিন, সিলেট সদরের পীরেরগাঁও এলাকার মাজেনের ১ বছর ২ মাস বয়সী শিশু মাজহারুল এবং মৌলভীবাজার সদরের বড় কাঁপন এলাকার মিলু মিয়ার ৮ মাস বয়সী শিশু তানিয়া।
জানা গেছে, শিশু তিনজন সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল ও এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সিলেট বিভাগে ল্যাব কনফার্ম হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে। শনাক্ত হওয়া এসব রোগীর মধ্যে হবিগঞ্জে ২১ জন, যার মধ্যে ২ জন রুবেলায় আক্রান্ত, মৌলভীবাজারে ১৬ জন, সুনামগঞ্জে ৮৫ জন এবং সিলেট জেলায় ৪২ জন রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৫৮ জন রোগী। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ২৯ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৭ জন, রাগীব রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ২ জন, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ২ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৭০ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮৩ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮৮ জন, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৪ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ২০ জন এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১০ জন ভর্তি রয়েছেন।
এ নিয়ে সিলেট বিভাগে অদ্যাবধি সন্দেহজনক হাম রোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫১ জনে। এছাড়া নিশ্চিত হাম রোগে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবমিলিয়ে বিভাগে হামে মোট মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৫৫ জন।
সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম কালবেলাকে বলেন, সন্দেহজনক হাম উপসর্গ ও নিউমোনিয়া আক্রান্ত হয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৫৮ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে ৫৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের মধ্যে হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে যেসব শিশু আগে থেকে অপুষ্টি বা শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছে, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগকে আরও সতর্ক অবস্থানে থাকতে হচ্ছে।