লন্ডনে চিকিৎসার জন্য গিয়ে শপিংয়ে ব্যস্ত ‘অসুস্থ’ রাষ্ট্রপতি

লন্ডনে চিকিৎসার জন্য গিয়ে শপিংয়ে ব্যস্ত ‘অসুস্থ’ রাষ্ট্রপতি
ছবির ক্যাপশান, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পু

চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর সফর ঘিরে নতুন করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি খরচে পরিবার ও সফরসঙ্গীদের নিয়ে তার এই বিদেশ সফরের ব্যয়, বিলাসবহুল আবাসন এবং সফরকালীন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে।

সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু গত ৯ মে মেডিকেল চেকআপের জন্য যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে প্রথমে তিনি লন্ডনের বিলাসবহুল হোটেল হিলটনে অবস্থান করেন। দুই দিন পর তিনি ক্যামব্রিজে যান এবং নিউমার্কেট এলাকার বেডফোর্ড লজ রিসোর্টে ওঠেন। পরে ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে হৃদরোগের ফলোআপ চিকিৎসা নেন তিনি ও তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানা।

 

চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার তারা আবার লন্ডনে ফিরে আসেন। এ সময় রাষ্ট্রপতির সফর ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় লন্ডন হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বিশেষ প্রটোকল নিশ্চিত করা হয়।

 

তবে সফর ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে রাষ্ট্রপতির শপিং ও সফরসঙ্গীদের কর্মকাণ্ড নিয়ে। হাইকমিশনের এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, শুক্রবার জুমার নামাজে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই রাষ্ট্রপতি হঠাৎ শপিংয়ের উদ্দেশ্যে বের হন। এতে তার প্রটোকলে দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তা নামাজ আদায় করতে পারেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে।

 

এছাড়া রাষ্ট্রপতির সফরের জন্য সাতটি বিলাসবহুল গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। অভিযোগ রয়েছে, এসব গাড়ি ব্যবহার করে সফরসঙ্গীরা বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করছেন। পুরো সফরে প্রায় দুই ডজনের মতো সফরসঙ্গী রয়েছেন বলেও জানা গেছে।

 

রাষ্ট্রপতির এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন দেশে সরকারি ব্যয় সংকোচন নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে অফিস সময় কমানো, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কাটছাঁট এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের নানা উদ্যোগের মধ্যে রাষ্ট্রপতির বিলাসবহুল বিদেশ সফর নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

 

সমালোচকদের দাবি, চিকিৎসার নামে বড় বহর নিয়ে বিদেশ সফর কৃচ্ছ্রসাধনের বার্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা বলছেন, দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারি অর্থ ব্যবহারে আরও সংযমী হওয়া প্রয়োজন ছিল।

 

অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, রাষ্ট্রপতির চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুসরণ করেই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তার সফরে নিরাপত্তা ও চিকিৎসা সংক্রান্ত অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক বলেও তারা মনে করছেন।

 

তবে সরকারি পর্যায়েও সফরের ব্যয় নিয়ে নীরব আলোচনা চলছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। বিশেষ করে সফরসঙ্গীর সংখ্যা, আবাসন ব্যয় এবং বিলাসবহুল যানবাহন ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভেতরেও প্রশ্ন উঠেছে।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের অর্থনৈতিক চাপের সময়ে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে রাষ্ট্রপতির এই সফর সাধারণ মানুষের দৃষ্টিতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

 

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পু দুই বছর পর মেডিকেল চেকআপের জন্য গত ৯ মে লন্ডনে যান। আগামীকাল রোববার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
 


সম্পর্কিত নিউজ