হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,১০৬

হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,১০৬
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশে হামের সংক্রমণ এখনো উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামে ও হামের উপসর্গে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৬ জন। আক্রান্তদের মধ্যে ১৫৯ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে, আর বাকি ৯৪৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে।

সোমবার (৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৪৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলমান প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪১ জনে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক দিনে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৫৯ শিশু। এছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন নতুন রোগীর সংখ্যা ৯৪৭ জন। সব মিলিয়ে ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ১০৬ জন, যা সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৮৯০ শিশু। অন্যদিকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে ৯৪০ শিশু। এতে বোঝা যায়, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণ না করলে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা বা রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।

 

এ পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের প্রতি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সঙ্গে জ্বর, শরীরে লালচে র‍্যাশ, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, কাশি কিংবা সর্দির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্ত শিশুদের সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় বর্ষাকালে এই সংক্রমণ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


সম্পর্কিত নিউজ