হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলছে ইরান, নৌ অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র: শাহবাজ শরিফ

হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলছে ইরান, নৌ অবরোধ তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র: শাহবাজ শরিফ
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও সামরিক সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) গুরুত্বপূর্ণ কিছু দিক প্রকাশ্যে এসেছে। এই সমঝোতার আওতায় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধও তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানান।

 

শাহবাজ শরিফ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বাস্তবায়ন শুরু হবে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হলো হরমুজ প্রণালি পুনরায় আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা এবং ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া।

 

তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতার ফলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ বিশ্বের মোট সমুদ্রপথে পরিবাহিত অপরিশোধিত তেলের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবহন করা হয়।

 

বিশ্ব জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, ইরাক এবং ইরানের বিপুল পরিমাণ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই পথ দিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে থাকে। ফলে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে প্রণালিটি নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ফিরে আসতে পারে। একই সঙ্গে এশিয়া ও ইউরোপের জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্যও এটি স্বস্তির খবর।

 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, কাতারের সহযোগিতায় পাকিস্তান আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে। এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো সদ্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারককে কেন্দ্র করে পরবর্তী কারিগরি ও কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করা এবং ঐতিহাসিক এই অগ্রগতিকে আন্তর্জাতিকভাবে চিহ্নিত করা।

 

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য ওই বৈঠকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিরা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, বাণিজ্যিক নৌ চলাচল এবং সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।

 

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি, পরিবহন এবং বাণিজ্য খাতে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, এই সমঝোতা তা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। তবে সমঝোতার পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। ফলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখনো অব্যাহত রয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যদি সমঝোতার শর্তগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে নতুন পথ তৈরি করতে পারে।


সম্পর্কিত নিউজ