রাশিয়া থেকে ২০ অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার কিনছে ইরান

রাশিয়া থেকে ২০ অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার কিনছে ইরান
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

দেশের দুর্যোগ মোকাবিলা, চিকিৎসা সহায়তা, অগ্নিনির্বাপণ এবং আকাশপথে উদ্ধার কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে রাশিয়ার কাছ থেকে ২০টি অত্যাধুনিক হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইরান। বুধবার (১৭ জুন) রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন হেলিকপ্টার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের সদর দপ্তরে এ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

চুক্তিতে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির (আইআরসিএস) সভাপতি পীর-হোসেইন কউলিভান্দ এবং রাশিয়ান হেলিকপ্টারসের মহাপরিচালক নিকোলাই কোলেসভ নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানের বেসামরিক বিমান ও উদ্ধার বহর আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

চুক্তি স্বাক্ষরের পর পীর-হোসেইন কউলিভান্দ বলেন, নতুন এই হেলিকপ্টার বহর শুধু রেড ক্রিসেন্টের সক্ষমতাই বাড়াবে না, বরং দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান এবং জরুরি চিকিৎসা পরিবহন ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করবে। তিনি এ উদ্যোগকে আইআরসিএসের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলে উল্লেখ করেন।

 

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০টি হেলিকপ্টারের মধ্যে প্রথম চারটির ক্রয়প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ চূড়ান্ত হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে ২০২৭ সালের মার্চ মাসে পারস্য নববর্ষ ‘নওরোজ’-এর আগেই প্রথম চালানের হেলিকপ্টারগুলো ইরানে পৌঁছাবে। পরবর্তী ধাপে বাকি হেলিকপ্টারগুলো ধাপে ধাপে সরবরাহ করা হবে।

 

ইরানের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য এবং ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দেশটির জন্য আধুনিক উদ্ধার হেলিকপ্টারের গুরুত্ব অনেক বেশি। ভূমিকম্প, বন্যা, তুষারঝড়, পাহাড়ি দুর্ঘটনা এবং বনাঞ্চলে অগ্নিকাণ্ডের মতো পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার জন্য আকাশপথে উদ্ধার সক্ষমতা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

 

নতুন হেলিকপ্টারগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উন্নত নাইট-ভিশন প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে রাতের অন্ধকার, প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সীমিত দৃশ্যমানতার মধ্যেও নিরাপদে উড্ডয়ন ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি আধুনিক ন্যাভিগেশন ব্যবস্থা, উন্নত যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং বিশেষায়িত উদ্ধার সরঞ্জাম সংযোজনের ফলে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া সহজ হবে।

 

আইআরসিএস জানিয়েছে, হেলিকপ্টারগুলোকে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এগুলো অগ্নিনির্বাপণ, আহত ব্যক্তিদের দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তর, দুর্যোগকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান এবং দুর্গম অঞ্চলে চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যবহার করা হবে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বর্তমান উদ্ধার ও জরুরি সেবার বড় একটি অংশ এখনও পুরোনো বিমান ও হেলিকপ্টার বহরের ওপর নির্ভরশীল। ফলে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন নতুন এই বহর কার্যক্রমের গতি ও দক্ষতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে। একই সঙ্গে দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চল, মরুভূমি এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় জরুরি সেবা পৌঁছে দেওয়াও আরও সহজ হবে।

 

চুক্তিটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রাশিয়ায় নিযুক্ত ইরানি দূতাবাস এবং ইরানের সংসদ ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির সহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন কউলিভান্দ। তিনি বলেন, বিভিন্ন পর্যায়ের কূটনৈতিক ও সংসদীয় সমন্বয় ছাড়া এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হতো না। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে উন্নত বিমান ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে ইরান। সেই প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি শুধু একটি বাণিজ্যিক সমঝোতা নয়, বরং দুই দেশের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতারও প্রতিফলন।

 

চুক্তি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম আধুনিক বেসামরিক উদ্ধার ও জরুরি সেবা বহরের মালিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা কার্যক্রম এবং জরুরি চিকিৎসা সেবার সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।


সম্পর্কিত নিউজ