চুক্তি সইয়ে মুখোমুখি হতে পারেন ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান, পরিকল্পনা ভাবছে তেহরান!

চুক্তি সইয়ে মুখোমুখি হতে পারেন ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান, পরিকল্পনা ভাবছে তেহরান!
  • Author,
  • Role, জাগরণ নিউজ

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রত্যাশিত সমঝোতা স্মারক সইয়ের আগে নতুন কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, চুক্তি সইয়ের অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উপস্থিত থাকতে পারেন, এমন একটি পরিকল্পনা বিবেচনায় আছে। তবে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘায়ি বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, সুইস সম্মেলন ঘিরে ইরানের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে সমঝোতা স্মারক কীভাবে সই হবে, সেই বিষয়ে একটি ধারণা হলো দুই দেশের প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা। তার ভাষায়, প্রস্তাবটি এখন বিবেচনাধীন।

 

এর আগে তেহরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে পার্লামেন্ট স্পিকার ও শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ প্রতিনিধিত্ব করবেন। এখন প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে সইয়ের সম্ভাবনা সামনে আসায় আলোচনাটিকে আরও উচ্চ রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে কূটনৈতিক মহলে ধারণা তৈরি হয়েছে।

 

ফ্রান্সে জি সেভেন সম্মেলনের ফাঁকে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যে সমঝোতায় পৌঁছানো হয়েছে, তা শিগগিরই সই হবে। তিনি নির্দিষ্ট দিন নিশ্চিত না করলেও বলেন, বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার এটি হতে পারে। আগের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, শুক্রবার ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে চুক্তি সইয়ের আয়োজন হতে পারে।

 

সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, প্রাথমিক চুক্তি সই হলে ৬০ দিনের একটি আলোচনার সময়সীমা শুরু হবে। প্রয়োজন হলে এই সময়সীমা বাড়ানো যেতে পারে। ওই সময়ের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির কাঠামো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা প্রত্যাহারের ধাপ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা।

 

চুক্তির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো হরমুজ প্রণালী। ইরান বলছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে চলাচল স্বাভাবিক করা হবে। তবে তেহরান স্পষ্ট করেছে, এই প্রক্রিয়ায় বাইরের কোনো শক্তির ভূমিকা থাকবে না। বাঘায়ির ভাষায়, এটি ইরানের নিজস্ব দায়িত্ব, আর ইরান নিজেই তা করবে।

 

ইরান আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী ব্যবস্থাপনায় ওমানের সঙ্গে একটি প্রক্রিয়া গড়ে তুলতে সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজন হলে অঞ্চলের অন্য দেশগুলোর সঙ্গেও মতবিনিময় করা হবে। তেহরানের অবস্থান হলো, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বাইরের শক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই আঞ্চলিক কাঠামোর মধ্যে রাখতে হবে।

 

অন্যদিকে, একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, সমঝোতা স্মারকে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ভান্ডার কমিয়ে আনার বিষয়ে একটি নতুন ন্যূনতম মানদণ্ড রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, লেবাননের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা রক্ষার বিষয়েও কিছু ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, বিশেষ করে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হিজবুল্লাহবিরোধী হামলার প্রেক্ষাপটে।

 

বিনিময়ে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর থাকা বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞার কিছু অংশ মওকুফের পথে যেতে পারে। তবে এগুলো পুরোপুরি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নয়, বরং শর্তসাপেক্ষ ছাড়। একই সঙ্গে মার্কিন খসড়া অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালী দিয়ে ৬০ দিনের জন্য টোল ছাড়া চলাচলের নিশ্চয়তা থাকবে। পরবর্তী সময়ে ট্রানজিট ফি আরোপের সুযোগ খোলা রাখা হয়েছে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।

 

তবে এই সমঝোতা এখনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি নয়। উভয় পক্ষই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষা করে এগোচ্ছে। ইরান হরমুজ ব্যবস্থাপনায় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে সামনে রাখছে, আর যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক সীমাবদ্ধতা, নিষেধাজ্ঞা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে মূল আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে চাইছে।

 

সুইজারল্যান্ডের সম্ভাব্য সই অনুষ্ঠান তাই কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, জ্বালানি বাজার, লেবানন পরিস্থিতি এবং ইরান যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা। শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্টরাই সই করবেন কি না, সেটিই এখন আলোচনার সবচেয়ে নজরকাড়া প্রশ্ন।


সম্পর্কিত নিউজ