যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আগে অবরোধ এলাকা ছাড়ল ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আগে অবরোধ এলাকা ছাড়ল ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার
ছবির ক্যাপশান, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনার আগে অবরোধ এলাকা ছাড়ল ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার আগে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নৌ অবরোধ এলাকা অতিক্রম করেছে কয়েকটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার। এই ঘটনাকে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বুধবার (১৭ জুন) প্রকাশিত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের তেলবাহী কয়েকটি জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বলয়ের বাইরে চলে গেছে এবং পূর্ব এশিয়ার গন্তব্যে যাত্রা করছে। বিষয়টি সামনে আসার পর আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

 

জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার ‘হিরো-টু’, ‘ডিওনা’ এবং ‘সোনিয়া-ওয়ান’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে আন্তর্জাতিক জলসীমার দিকে এগিয়ে গেছে। এসব জাহাজে কয়েক মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 

দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অংশ হিসেবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি উন্মুক্ত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হিসেবে পরিচিত। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের একটি বড় অংশ এই প্রণালির মাধ্যমে যাতায়াত করে।

 

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। চুক্তি কার্যকর হলে ইরানকে আবারও আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও জ্বালানি রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি তেলের বাজারে প্রত্যাবর্তন বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। এর ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে বৃদ্ধি পাওয়া তেলের দাম কমতে পারে।

 

এদিকে শান্তি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
 


সম্পর্কিত নিউজ