প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন মাত্র ৩৪% মার্কিন: রয়টার্স/ইপসোস জরিপ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন মাত্র ৩৪% মার্কিন: রয়টার্স/ইপসোস জরিপ
ছবির ক্যাপশান, ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা তার বর্তমান মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। রয়টার্স/ইপসোসের সর্বশেষ জনমত জরিপে দেখা গেছে, বর্তমানে মাত্র ৩৪ শতাংশ মার্কিন নাগরিক প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের কার্যক্রমকে সমর্থন করছেন। কয়েক সপ্তাহ আগেও এই হার ছিল ৩৬ শতাংশ, আর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে নতুন মেয়াদ শুরুর সময় তা ছিল ৪৭ শতাংশ।

চার দিনব্যাপী এই জরিপ সোমবার শেষ হয়। এতে অংশ নেন ১,২৬৯ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক, যাদের মধ্যে ১,০১৪ জন নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন। জরিপটির ত্রুটির সীমা ছিল প্রায় ৩ শতাংশ পয়েন্ট। রয়টার্স বলছে, জনমতে এই পতনের পেছনে মূলত দুটি ইস্যু বড় হয়ে উঠেছে-জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধনীতি।

 

জরিপে দেখা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্টি আরও কমেছে। বর্তমানে মাত্র ২২ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, এই ইস্যুতে ট্রাম্পের পদক্ষেপ তারা সমর্থন করেন। আগের জরিপে এই হার ছিল ২৫ শতাংশ। অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার সামগ্রিক অনুমোদনও নেমে এসেছে ২৭ শতাংশে, যা তার আগের প্রেসিডেন্সির যেকোনো সময়ের তুলনায় নিচে।

 

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত এবং এর ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ সৃষ্টি হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম ৪০ শতাংশের বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালন প্রায় ৪.১৮ ডলার ছুঁয়েছে। জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি মার্কিন পরিবারগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

 

এই পরিস্থিতি রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। যদিও জরিপে দেখা গেছে, রিপাবলিকান ভোটারদের মধ্যে এখনো ৭৮ শতাংশ ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন, তবু একই দলের ৪১ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে ট্রাম্প যথেষ্ট কার্যকর নন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই ধরনের সংকেত রিপাবলিকানদের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

 

স্বতন্ত্র ভোটারদের দিক থেকেও পরিস্থিতি ট্রাম্পের জন্য খুব সুখকর নয়। জরিপে দেখা গেছে, কংগ্রেস নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা রিপাবলিকানদের চেয়ে ১৪ পয়েন্টে এগিয়ে। এই অংশের ৩৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে, আর ২০ শতাংশ রিপাবলিকানদের পক্ষে মত দিয়েছেন। প্রতি চারজনের একজন জানিয়েছেন, তারা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে স্বতন্ত্র ভোটারদের ভূমিকা সাধারণত খুব গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।

 

এদিকে জরিপের বেশিরভাগ উত্তর সংগ্রহ করা হয়েছিল ওয়াশিংটনের হিলটন হোটেলে হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস’ অ্যাসোসিয়েশনের নৈশভোজে গুলির ঘটনার আগেই। ওই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প উপস্থিত ছিলেন, এবং পরে অভিযুক্ত বন্দুকধারীর বিরুদ্ধে তাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়। ফলে এই ঘটনার পর জনমতে আরও কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

 

রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই গুলির ঘটনার পর প্রেসিডেন্টকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো এখন ঘটনাটিকে ঘিরে কীভাবে নিরাপত্তা বলয় ভেদ করা সম্ভব হলো, সেটিও তদন্ত করছে।


সম্পর্কিত নিউজ