যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৮

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ৮
ছবির ক্যাপশান, ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলা থামছে না। বুধবার ভোরে লেবাননের সীমান্তবর্তী হানিন শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এতে শহরটির বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। একই সময়ের আগে ও পরে দক্ষিণ লেবাননের আরও কয়েকটি এলাকায় হামলা ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এনএনএ’র বরাতে আল জাজিরা জানায়, শুধু হানিন নয়, মঙ্গলবার রাতেও নাকুরা শহরে ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। সেখানে রাতভর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। একই সময়ে খিয়াম শহরেও বিমান হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় কয়েক দিন ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা বেড়ে যাওয়ায় যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

 

এর আগের দিন মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননের মাজদাল জুন শহরে পরপর দুটি ইসরায়েলি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে তিনজন উদ্ধারকর্মী ছিলেন, যারা প্রথম হামলার পর আহতদের উদ্ধারে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, দ্বিতীয় হামলায় ওই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন এবং পরে তাদের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়। একই হামলায় লেবাননের সেনাবাহিনীর দুই সদস্য আহত হন।

 

লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাওয়াফ সালাম এই হামলাকে “নতুন ও স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ” বলে নিন্দা জানিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর আগেই সতর্ক করেছিল যে লেবাননে বেসামরিক মানুষ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর ইসরায়েলি হামলা যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।

 

দক্ষিণ লেবাননে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ চলমান রয়েছে। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মঙ্গলবার হিজবুল্লাহ দক্ষিণ লেবাননে অবস্থানরত ইসরায়েলি সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করে। এর জবাবে ইসরায়েল নতুন করে বিমান হামলা চালায় এবং দক্ষিণ লেবাননের ১৬টি গ্রামের বাসিন্দাদের উত্তর দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়।

 

গত সপ্তাহেও দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ অঞ্চলের ইয়াহমোর আল-শাকিফ শহরে একটি ট্রাক ও মোটরসাইকেলে ইসরায়েলি হামলায় চারজন নিহত হন বলে লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থার বরাতে জানিয়েছিল আল জাজিরা। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হলেও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে।

 

লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য উদ্ধৃত করে আল জাজিরা জানিয়েছে, ২ মার্চ থেকে ইসরায়েলি হামলায় লেবাননে ২ হাজার ৪৯৬ জন নিহত এবং ৭ হাজার ৭১৯ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ৫৩৪ এবং আহতের সংখ্যা ৭ হাজার ৮৬৩ বলা হয়েছে। ভিন্ন সময়ের সরকারি আপডেটের কারণে এই সংখ্যায় কিছু পার্থক্য দেখা যাচ্ছে।

 

ইসরায়েল বলছে, দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো, ড্রোন ও রকেট সক্ষমতা এখনও তাদের উত্তরাঞ্চলের জন্য হুমকি। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, ইসরায়েল “নিরাপত্তা অঞ্চল” এবং এর উত্তরের এলাকাতেও হামলা চালাচ্ছে। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে, এসব হামলা যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করছে এবং বেসামরিক মানুষের ঘরবাড়ি ও উদ্ধারকর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতির পর দক্ষিণ লেবাননে সাময়িকভাবে সহিংসতা কমলেও বাস্তবে সীমান্ত এলাকায় স্থায়ী শান্তি ফেরেনি। রয়টার্স জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ পরস্পরের বিরুদ্ধে লঙ্ঘনের অভিযোগ করছে, আর দক্ষিণ লেবাননের কিছু এলাকায় ইসরায়েলি সেনারা অবস্থান ধরে রেখেছে।

 

এ অবস্থায় দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ মানুষ নতুন করে নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়েছেন। একদিকে ঘরবাড়ি ধ্বংস হচ্ছে, অন্যদিকে উদ্ধারকর্মীরাও হামলার শিকার হচ্ছেন। হানিন, নাকুরা, খিয়াম, মাজদাল জুন ও ইয়াহমোর আল-শাকিফসহ সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে চলমান হামলা যুদ্ধবিরতিকে আরও দুর্বল করে তুলছে বলে আশঙ্কা করছেন পর্যবেক্ষকরা।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা


সম্পর্কিত নিউজ