{{ news.section.title }}
ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে তুরস্ক–পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপ
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত বন্ধের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা থেমে নেই। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। তুর্কি কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক, যুদ্ধবিরতির অবস্থা এবং সামনে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা করেছেন।
আনাদোলুর খবরে বলা হয়েছে, এই ফোনালাপে মূল গুরুত্ব ছিল ইসলামাবাদ প্রক্রিয়াকে সচল রাখা এবং সম্ভাব্য পরবর্তী দফার আলোচনার প্রস্তুতি। তুরস্ক শুরু থেকেই কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে, আর পাকিস্তান বর্তমান সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। রয়টার্সও জানিয়েছে, পাকিস্তান এখনও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ ধরে রেখেছে এবং দুই পক্ষকে আবারও আলোচনার টেবিলে ফেরাতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সরাসরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। রয়টার্সের ভাষ্য অনুযায়ী, বৈঠকটি ছিল ১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে উচ্চপর্যায়ের প্রত্যক্ষ যোগাযোগের একটি, কিন্তু পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে মতভেদ রয়ে যায়। তারপরও উভয় পক্ষ সংলাপের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেনি।
আরো পড়ুন : ইরান থেকে তেল নিতে পারবে না চীন - যুক্তরাষ্ট্র
দ্বিতীয় দফার আলোচনা নিয়ে নতুন আশাও দেখা যাচ্ছে। আনাদোলু জানিয়েছে, পাকিস্তানের আমন্ত্রণে ইসলামাবাদে খুব শিগগিরই আবারও বৈঠক হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। রয়টার্সের একাধিক সূত্রও বলেছে, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল আবার ইসলামাবাদে ফিরতে পারে। যদিও সময় ও স্থান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত হয়নি, সম্ভাব্য নতুন বৈঠককে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগের একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্ক সফরে যাচ্ছেন। ইসলামাবাদের সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিলের এই সফরে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর ইসলামাবাদের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকাকে আরও জোরালো করার অংশ।
আরো পড়ুন : যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে ‘অপ্রকাশিত’ শক্তি দেখাবে ইরান - আইআরজিসি
ইরানি কর্তৃপক্ষের প্রাণহানির দাবির বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলায় তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে বলে ইরানি পক্ষ দাবি করছে। তবে এই সংখ্যা স্বাধীনভাবে আন্তর্জাতিক কোনো নিরপেক্ষ সংস্থা যাচাই করেছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এ কারণে কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি মানবিক পরিস্থিতিও আলোচনার বড় অংশ হয়ে উঠছে।