{{ news.section.title }}
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টায় কেন পাকিস্তানের প্রশংসা করলেন এরদোয়ান?
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। শুক্রবার তুরস্কের আন্তালিয়ায় শুরু হওয়া পঞ্চম আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে এ বৈঠক হয়। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি আলোচনা এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রক্রিয়া নিয়ে মতবিনিময় করেন তারা।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকটি ছিল উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ। প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে তুরস্কে স্বাগত জানান এবং আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামে অংশ নেওয়ার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট।
এরদোয়ান বলেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের কূটনৈতিক উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়া অব্যাহত রাখবে আঙ্কারা। আনাদোলুর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈঠকে দুই দেশ জ্বালানি, বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও এগিয়ে নিতে পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা করেছে।
দুই নেতা সাম্প্রতিক আঞ্চলিক ঘটনাবলি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তনশীল পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি টেকসই করা এবং সংলাপ অব্যাহত রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পায়। রয়টার্স জানিয়েছে, তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করা এবং আলোচনার পথ খোলা রাখতে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। আঙ্কারা ওয়াশিংটন, তেহরান ও মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ শান্তি প্রচেষ্টায় এরদোয়ানের দৃঢ় সমর্থন ও উৎসাহের জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান। দুই নেতা বর্তমান পরিস্থিতিকে আঞ্চলিক শান্তির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে দেখছেন। ডন জানিয়েছে, বৈঠকে তারা “বর্তমান সুযোগকে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী আঞ্চলিক শান্তি এগিয়ে নেওয়ার” ওপর জোর দেন।
আরো পড়ুন : হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে কী কী নিয়ম মানতে হবে? জানুন বিস্তারিত
সৌদি আরব ও কাতার সফর শেষে ত্রিদেশীয় সফরের শেষ ধাপে তুরস্কে পৌঁছান শেহবাজ শরিফ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তার এই সফর আঞ্চলিক সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং নিরাপত্তা ইস্যুতে পাকিস্তানের কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ। এর আগে রিয়াদে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং দোহায় কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
আন্তালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরামের ফাঁকে পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যেও বৈঠক হয়েছে। Axios জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের প্রচেষ্টা নিয়ে এটি ছিল যুদ্ধ শুরুর পর তৃতীয় “কোয়াড” বৈঠক। পাকিস্তান এই প্রক্রিয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে, আর তুরস্ক, সৌদি আরব ও মিসর কূটনৈতিক সমন্বয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
সব মিলিয়ে, শেহবাজ-এরদোয়ান বৈঠকটি শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিক অংশ নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত থামাতে আঞ্চলিক কূটনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করছে, আর তুরস্ক শান্তি প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক সহায়তা দিয়ে যেতে চাইছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংলাপ কতটা এগোবে, সেটিই এখন এই কূটনৈতিক উদ্যোগের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।