{{ news.section.title }}
ইরানের প্রস্তাবে অসন্তুষ্ট ট্রাম্প, দ্রুত যুদ্ধ শেষ করতে নারাজ কেন?
ইরান যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক বার্তা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সর্বশেষ শান্তি প্রস্তাবে তিনি সন্তুষ্ট নন বলে জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, এমন কোনো চুক্তি করা যাবে না, যা আপাতত যুদ্ধ থামালেও কয়েক বছর পর একই সংকট আবার ফিরে আসে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে পাঠানো নতুন শান্তি প্রস্তাব নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, সেখানে এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যেগুলোতে তিনি সম্মত হতে পারেন না। তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, শুধু দ্রুত সমাপ্তির জন্য ওয়াশিংটন এমন কোনো সমঝোতায় যাবে না, যা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে রয়টার্স জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস কংগ্রেসকে বলেছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি সমাপ্ত হয়েছে। তবে একই সময়ে যুদ্ধের বাস্তবতা, যুদ্ধক্ষমতা, কূটনৈতিক চাপ এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনা নিয়ে ওয়াশিংটনের ভেতরে বিতর্ক চলছে। যুদ্ধক্ষমতা আইন বা War Powers Resolution ঘিরেও যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আলোচনা জোরালো হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান হচ্ছে, ইরানকে এমনভাবে চাপে রাখতে হবে, যাতে দেশটি ভবিষ্যতে আবার একই ধরনের সামরিক বা পারমাণবিক সংকট তৈরি করতে না পারে। আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তাড়াহুড়ো করে যুদ্ধ শেষ করার পক্ষে নন, যদি তাতে তিন বছর পর একই সমস্যা ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে।
ইরান ইস্যুতে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পারমাণবিক কর্মসূচি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, তেহরান স্থায়ীভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ করুক। অন্যদিকে ইরানের প্রস্তাবে কী কী নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে, তা পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলে ধারণা, যুদ্ধবিরতি, নিষেধাজ্ঞা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে চাপ কমানোর বিষয়গুলো আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে উত্তেজনাও পরিস্থিতিকে জটিল করছে। রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি বন্দর ও সমুদ্রপথ ঘিরে মার্কিন নৌবাহিনীর অবরোধমূলক পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেছেন। এই সমুদ্রপথ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় সংঘাত দীর্ঘ হলে তেল ও গ্যাস বাজারে বড় প্রভাব পড়তে পারে।
অন্যদিকে আল জাজিরা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ ইরানকে ফি বা টোল দিলে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছে। এতে শুধু সামরিক নয়, অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। বৈশ্বিক বাণিজ্য, জ্বালানি বাজার এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি একসঙ্গে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এখনো পুরোপুরি থেমে যায়নি। ইরানের প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে পৌঁছেছে বলে আল জাজিরা জানিয়েছে। তবে ট্রাম্পের অসন্তোষ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ওয়াশিংটন এখনো এমন কোনো চুক্তির কাছাকাছি পৌঁছায়নি, যেটিকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, দ্রুত যুদ্ধবিরতি বা অস্থায়ী সমঝোতা পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত করতে পারে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান না হলে ইরান, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকট আবারও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। ট্রাম্পের সতর্কতার মূল বার্তাও সেখানেই, তিনি যুদ্ধ শেষ করতে চান, তবে এমন চুক্তি চান না যা ভবিষ্যতের আরও বড় সংঘাতের দরজা খুলে দেয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইরান কি নতুন করে প্রস্তাব বদলাবে, নাকি যুক্তরাষ্ট্র চাপ আরও বাড়াবে। যুদ্ধের সামরিক দিক আপাতত সীমিত মনে হলেও কূটনৈতিক অচলাবস্থা, সমুদ্রপথে চাপ এবং পারমাণবিক শর্ত নিয়ে বিরোধ পরিস্থিতিকে অনিশ্চিত রেখেছে।