{{ news.section.title }}
ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ, ইরানে ২ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান। দেশটির বিচার বিভাগের বরাতে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তদের একজন মধ্য ইসফাহান প্রদেশের নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহে জড়িত ছিলেন। শনিবার তাদের ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ইরানের বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তি হলেন ইয়াকুব কারিমপুর ও নাসের বাকরজাদেহ। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল এবং দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের অভিযোগ আনা হয়। আদালতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দণ্ড কার্যকর করা হয়।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি গণমাধ্যমের বরাতে জানানো হয়েছে, কারিমপুরের বিরুদ্ধে মোসাদের এক কর্মকর্তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ ছিল। অন্যদিকে বাকরজাদেহের বিরুদ্ধে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা এবং কৌশলগত স্থাপনা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের অভিযোগ আনা হয়। এসব স্থাপনার মধ্যে নাতাঞ্জ পারমাণবিক স্থাপনার আশপাশের এলাকাও ছিল।
নাতাঞ্জ ইরানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তেহরানের টানাপোড়েন রয়েছে। ইসরায়েলও বহু বছর ধরে ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আসছে। ফলে নাতাঞ্জ এলাকার তথ্য সংগ্রহের অভিযোগকে ইরান অত্যন্ত গুরুতর নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে দেখছে।
আল জাজিরার লাইভ আপডেটেও জানানো হয়েছে, ইরানের বিচার বিভাগ দুই ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। তাদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ছিল। তবে অভিযুক্তরা কবে গ্রেফতার হয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা নতুন নয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরান ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট গুপ্তচর নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছে বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ দাবি করে আসছে। বিশেষ করে সামরিক, পারমাণবিক এবং কৌশলগত স্থাপনা নিয়ে তথ্য ফাঁসের অভিযোগে কয়েকজনকে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে।
তেহরানের দাবি, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ইরানের ভেতরে নাশকতা, তথ্য সংগ্রহ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। অন্যদিকে মানবাধিকার সংস্থাগুলো প্রায়ই ইরানের বিচারপ্রক্রিয়া, স্বীকারোক্তি আদায়ের পদ্ধতি এবং মৃত্যুদণ্ডের ব্যাপক ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে থাকে। তবে এই নির্দিষ্ট মামলায় ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, দণ্ডপ্রাপ্তরা ইসরায়েলের সঙ্গে গোয়েন্দা সহযোগিতার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নতুন করে আলোচনায় এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং গোয়েন্দা লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অবস্থানের কঠোর বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থাপনার তথ্য পাচারের মতো অভিযোগে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের ছায়াযুদ্ধ যত দীর্ঘায়িত হচ্ছে, ততই গুপ্তচরবৃত্তি ও পাল্টা অভিযানের অভিযোগ সামনে আসছে।