{{ news.section.title }}
যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে?
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর দেশটির রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোর আলোচনা। একই সঙ্গে লেবার পার্টির নেতার পদ থেকেও সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্টারমার।
তার পদত্যাগ ঘোষণার পর লেবার পার্টির সামনে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, কে হতে যাচ্ছেন দলের নতুন নেতা এবং পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী?
স্টারমার জানিয়েছেন, তার উত্তরসূরি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়া আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শুরু হবে। তবে দলীয় সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে, নেতৃত্বের লড়াই হয়তো খুব বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে না। অনেক লেবার এমপি মনে করছেন, একজন শক্তিশালী প্রার্থীকে ঘিরেই ঐকমত্য তৈরি হতে পারে।
এ মুহূর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। লেবার পার্টির অনেক নেতা ও কর্মী তাকে পরবর্তী নেতা হিসেবে দেখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনিই সবচেয়ে এগিয়ে থাকা প্রার্থী।
যদিও সাবেক মন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং আগে নেতৃত্বের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন, তবে তার ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে তিনি শেষ পর্যন্ত প্রার্থী নাও হতে পারেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এমন আলোচনাও রয়েছে যে, বার্নহাম নেতৃত্বে এলে স্ট্রিটিংকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, নেতৃত্বের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ সবার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবুও এখন পর্যন্ত এমন কোনো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম সামনে আসেনি, যিনি বার্নহামের অবস্থানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন।
অ্যান্ডি বার্নহাম দীর্ঘদিন ধরে লেবার পার্টির অন্যতম পরিচিত ও জনপ্রিয় নেতা হিসেবে পরিচিত। মেকারফিল্ডের এমপি এবং গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র হিসেবে তিনি ব্যাপক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন।
মার্সিসাইডের এইনট্রিতে বেড়ে ওঠা বার্নহাম নিজেকে লেবার পার্টির বামঘরানার রাজনীতিক হিসেবে পরিচয় দেন। ১৯৮০-এর দশকের খনি শ্রমিকদের আন্দোলন ও ধর্মঘট থেকে তিনি রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হন এবং পরবর্তীতে লেবার পার্টিতে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন।
২০০১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত তিনি লেই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ও গর্ডন ব্রাউনের সরকারে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, জনপ্রিয়তা এবং দলীয় গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে এখন নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।