{{ news.section.title }}
যুদ্ধবিরতিতে লেবাননকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত করতে হবে - ঘালিবাফ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত ১৪ দিনের যুদ্ধবিরতির আওতায় লেবাননকেও অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটনকে ‘ইসরায়েল প্রথম’ নীতি ত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ঘালিবাফ বলেন, “(যুক্তরাষ্ট্র-ইরান) যুদ্ধবিরতিতে লেবাননের অন্তর্ভুক্তি অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইসরায়েল প্রথম’ পররাষ্ট্রনীতিও ত্যাগ করা উচিত ওয়াশিংটনের।” এই অবস্থান এমন সময় সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি বহাল থাকলেও লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হয়নি।
ঘালিবাফ তার বার্তায় আরও বলেন, লেবাননে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি নির্ভর করবে দেশটির সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর অটল অবস্থানের ওপর। বুধবারের আরেক মন্তব্যে তিনি ইরান-সমর্থিত আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোকে একত্রে “প্রতিরোধী পক্ষ” হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, “যুদ্ধ হোক কিংবা যুদ্ধবিরতি- হিজবুল্লা, হামাস, হুথি এবং ইরাকি মিলিশিয়ারা সবাই এক-আত্মা।” বিশ্লেষকদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তেহরান একদিকে আঞ্চলিক মিত্রদের প্রতি সমর্থনের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ওপর রাজনৈতিক চাপও বাড়াতে চাইছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর থেকেই লেবাননকে এর আওতায় আনা উচিত কি না, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছে। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কায়া কালাসও প্রকাশ্যে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতি লেবানন পর্যন্ত সম্প্রসারিত হওয়া উচিত। তবে ইসরায়েলি পক্ষ শুরু থেকেই এই অবস্থান নেয়নি। রয়টার্স জানিয়েছে, ইসরায়েল লেবাননের সঙ্গে আলাদা ট্র্যাকে আলোচনা চালালেও তারা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং কোনো তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি।
লেবাননের ভেতরে যুদ্ধের মানবিক মূল্যও দ্রুত বাড়ছে। আপনার দেওয়া সংখ্যার সঙ্গে মিল রেখে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৬৭ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাম্প্রতিক হিসাবেও প্রাণহানির মাত্রা অত্যন্ত গুরুতর বলে উঠে এসেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে লেবাননে দুই হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১২ লাখের মতো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করেছে, দেশটির হাসপাতালগুলো জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী সংকটে কয়েক দিনের মধ্যেই বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।
আরো পড়ুন : ইরানের জন্য সোনা-গয়না, সঞ্চয় ভেঙে সহায়তায় কাশ্মীরিরা
প্রেক্ষাপট হিসেবে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর আঞ্চলিক উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। দুই দিন পর, ২ মার্চ, লেবানন ফ্রন্টে নতুন করে সংঘাত তীব্র হয় এবং হিজবুল্লাহ-ইসরায়েল লড়াই পূর্ণমাত্রা পায়। তারপর টানা প্রায় ৪০ দিনের যুদ্ধের পর ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই বিরতির মধ্যেও লেবাননে হামলা চলতে থাকায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণেই ঘালিবাফ এখন প্রকাশ্যে বলছেন, যুদ্ধ থামাতে হলে লেবাননকে বাদ দিয়ে কোনো সমাধান টেকসই হবে না।
এদিকে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে বিরল প্রত্যক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সেখানেও বড় অচলাবস্থা রয়ে গেছে। লেবানন যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি প্রত্যাহার এবং মানবিক সহায়তা চাইছে; অন্যদিকে ইসরায়েল আলোচনার কেন্দ্রেই রাখতে চাইছে হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ। হিজবুল্লাহ ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে, এই আলোচনায় হওয়া যেকোনো চুক্তিতে তারা নিজেদের বাধ্য মনে করবে না। ফলে ঘালিবাফের বক্তব্য এমন এক সময় এলো, যখন যুদ্ধ, যুদ্ধবিরতি এবং কূটনৈতিক আলোচনার তিনটি ধারা একই সঙ্গে চললেও কোনো স্থিতিশীল সমাধান এখনো দৃশ্যমান হয়নি।