{{ news.section.title }}
লেবাননে ‘ইয়েলো লাইন’ স্থাপনের দাবি ইসরাইলের, গাজার মতো বিভাজন
দক্ষিণ লেবাননে ‘ইয়েলো লাইন’ নামে একটি সীমারেখা স্থাপন করেছে বলে জানিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী, যা গাজায় ব্যবহৃত একই ধরনের সামরিক ব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ‘ইয়েলো লাইনের’ দক্ষিণে অভিযান চালানোর সময় তারা এমন কিছু যোদ্ধাকে শনাক্ত করেছে, যারা যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে উত্তরের দিক থেকে এগিয়ে আসছিল এবং তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করছিল।
লেবাননে এই ধরনের ‘ইয়েলো লাইন’ ব্যবহারের কথা এই প্রথমবারের মতো উল্লেখ করলো ইসরাইল। এটি এমন সময় সামনে এলো, যখন দুই পক্ষের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।এর আগে গাজায় একই ধরনের একটি ‘ইয়েলো লাইন’ ব্যবহার করে অঞ্চলটিকে পৃথক অংশে ভাগ করা হয়েছিল, যেখানে পূর্ব অংশ ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে এবং পশ্চিম অংশে চলাচলে তুলনামূলক কম বিধিনিষেধ ছিল।
গাজায় এই সীমারেখার কাছে কেউ গেলেই গুলি চালানোর ঘটনা ঘটেছে এবং ওই এলাকায় শত শত ঘরবাড়ি ধ্বংস করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির সময়ও হামলায় শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। রামাল্লাহ থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক নূর ওদেহ বলেন, লেবাননে এই ‘ইয়েলো লাইন’ স্থাপন দক্ষিণাঞ্চলে গাজার মতো পরিস্থিতি তৈরির ধারাবাহিকতা বলে মনে হচ্ছে।
আরো পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে ‘নতুন পরাজয়ের’ হুঁশিয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতার
তিনি আরও জানান, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী সীমান্তবর্তী লেবাননি গ্রামগুলো ধ্বংস করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং গাজার কিছু এলাকার মডেল অনুসরণের কথা বলেছেন। যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবার বেইত লেইফ, কানতারা ও টুলিন এলাকায় গোলাবর্ষণ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ি ধ্বংসের ঘটনা ঘটেছে।
ইসরাইলি বাহিনী দাবি করেছে, তাদের অবস্থানের দিকে যোদ্ধারা এগিয়ে আসায় আত্মরক্ষার্থে এসব হামলা চালানো হয়েছে এবং তাৎক্ষণিক হুমকি দূর করতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এদিকে হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাইম কাসেম বলেছেন, যুদ্ধবিরতি টিকে থাকতে হলে তা উভয় পক্ষের পক্ষ থেকেই মানতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিরোধ যোদ্ধারা প্রস্তুত রয়েছে এবং কোনো লঙ্ঘনের জবাব দেওয়া হবে। তিনি ইসরাইলকে লেবানন থেকে সম্পূর্ণভাবে সরে যাওয়ারও আহ্বান জানান।
আরো পড়ুন : আগামী সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা, প্রস্তুতির ইঙ্গিত পাকিস্তানের
নাইম কাসেম আরও বলেন, পরবর্তী ধাপে বন্দি বিনিময় এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে ফেরার বিষয়টি গুরুত্ব পাবে। তিনি জানান, পুনর্গঠন কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আরব সহায়তা প্রয়োজন হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, লেবাননের রাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রেও হিজবুল্লাহ উন্মুক্ত রয়েছে, যদি তা জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করে।
২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলমান রয়েছে।লেবানন সরকারও এই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং ইসরাইলের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ও লেবাননের প্রেসিডেন্টের মধ্যে শিগগিরই আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।