ইউরেনিয়াম ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান জানাল ইরান

ইউরেনিয়াম ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান জানাল ইরান
ছবির ক্যাপশান, এআই ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার মধ্যেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম স্থানান্তর নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকেই জানিয়েছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো দেশেই পাঠানো হবে না। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের বিষয়টি কখনোই আলোচনার টেবিলে ছিল না বলেও দাবি করেছেন তিনি।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসমাইল বাকেই শুক্রবার এক মন্তব্যে বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। তার ভাষায়, ইরানের মাটি যেমন পবিত্র, তেমনি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামও দেশটির কাছে একই মর্যাদার বিষয়।

 

ইরানের এই বক্তব্য এসেছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি দাবির পর। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরান চলমান আলোচনায় “সবকিছুতে রাজি” হয়েছে, এমনকি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানোর বিষয়েও। তবে তেহরান সেই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আল জাজিরার বরাতে বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, ইরান বলেছে, তারা কোনো পরিস্থিতিতেই সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তর করবে না।

 

বাকেই বলেন, দেশের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি কখনোই আলোচনার অংশ ছিল না। তিনি ইরানের পারমাণবিক অর্জনকে জাতীয় গর্ব, বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা এবং জনগণের ত্যাগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তার মতে, ইরানের জনগণের জীবন, সম্পদ এবং বৈজ্ঞানিক অর্জন-সবই পবিত্র বিষয়। তাই এসব অর্জন রক্ষা করা তেহরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 

ইরানের অবস্থান অনুযায়ী, পারমাণবিক কর্মসূচি দেশটির সার্বভৌম অধিকার। আল জাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান প্রকাশ্য অবস্থানে বারবারই জানিয়ে আসছে যে, নিজেদের প্রয়োজন অনুযায়ী ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাওয়ার অধিকার তারা ছাড়বে না। এখন পর্যন্ত কোনো ইরানি কর্মকর্তা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠাতে সম্মত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেননি।

 

আরো পড়ুন : ইরানের ‘না’, অনিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসলামাবাদ বৈঠক

 

এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় নতুন অচলাবস্থা তৈরি করতে পারে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ করা কূটনৈতিক ও কারিগরি-দুই দিক থেকেই অত্যন্ত কঠিন বিষয়। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ৪৪১ কেজি এবং ২০ শতাংশ মাত্রায় সমৃদ্ধ ২০০ কেজি ইউরেনিয়াম রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় উদ্বেগের কারণ। তবে ইরান বলছে, তারা কোনোভাবেই এই মজুত বিদেশে পাঠাবে না।

 

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা বেড়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনা জানিয়েছে, তেহরান ইসলামাবাদে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নেবে না। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবি, বারবার অবস্থান পরিবর্তন, পরস্পরবিরোধী বক্তব্য এবং হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ অবরোধ আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করেছে। দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজ আটক ও অবরোধকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে এবং এসব কারণে নতুন আলোচনার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

 

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় দফা আলোচনার জন্য পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানোর কথা জানিয়েছেন। তবে ইরান বলছে, অবরোধ বহাল থাকলে এবং চাপের কূটনীতি চলতে থাকলে গঠনমূলক আলোচনা সম্ভব নয়। তেহরানের অবস্থান হলো, যুক্তরাষ্ট্র একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখছে-যা আস্থার সংকটকে আরও গভীর করছে।

সূত্র: তাসনিম নিউজ


সম্পর্কিত নিউজ