ইরানের বিরুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের
ছবির ক্যাপশান, ইরানের বিরুদ্ধে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের

ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক ব্যবহারের জন্য মধ্যপ্রাচ্যে অত্যাধুনিক হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ডার্ক ইগল’ মোতায়েনের কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড, সেন্টকম, এই ক্ষেপণাস্ত্র মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর অনুমতি চেয়েছে।

ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের গভীরে থাকা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে আঘাত হানার সক্ষমতা বাড়াতেই এই অস্ত্র চাওয়া হয়েছে। সেন্টকমের যুক্তি, ইরান তার ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারগুলো এমন দূরত্বে সরিয়ে নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমানে ব্যবহৃত প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইলের আওতার বাইরে।


অনুমোদন মিললে এটি হবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন। ব্লুমবার্গ বলছে, ডার্ক ইগল এখনো পুরোপুরি কার্যকর অস্ত্র হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি। অথচ রাশিয়া ও চীন ইতোমধ্যে নিজেদের হাইপারসনিক অস্ত্র মোতায়েন করেছে।


ডার্ক ইগল বা লং রেঞ্জ হাইপারসনিক ওয়েপন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর দীর্ঘপাল্লার দ্রুতগতির অস্ত্র ব্যবস্থা। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি শব্দের গতির চেয়ে কয়েকগুণ দ্রুত ছুটতে পারে এবং দূরবর্তী উচ্চমূল্যের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তৈরি করা হয়েছে। নিউইয়র্ক পোস্ট ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, এর সম্ভাব্য পাল্লা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মাইল পর্যন্ত হতে পারে।


তবে মার্কিন প্রশাসন এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। সেন্টকমও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


এই পরিকল্পনার খবর এমন সময়ে সামনে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি থাকলেও পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রণালি এবং নৌ অবরোধ নিয়ে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের পথ ত্যাগ না করলে কোনো চুক্তির অর্থ নেই।


তেহরান দাবি করছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ। অন্যদিকে ওয়াশিংটন বলছে, ইরানকে যাচাইযোগ্যভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসতে হবে।


বিশ্লেষকদের মতে, ডার্ক ইগল মোতায়েনের অনুমতি চাওয়া শুধু সামরিক প্রস্তুতির অংশ নয়, এটি তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশলও হতে পারে। তবে এমন পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াতে পারে।
 


সম্পর্কিত নিউজ