হরমুজে অভিযান থামালেন ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে কী আলোচনা চলছে?

হরমুজে অভিযান থামালেন ট্রাম্প, ইরানের সঙ্গে শেষ মুহূর্তে কী আলোচনা চলছে?
ছবির ক্যাপশান, এআই ছবি

ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ইঙ্গিত মিলতেই হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন সামরিক উদ্যোগ সাময়িকভাবে থামিয়ে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই ওয়াশিংটনের এমন সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

আল জাজিরার লাইভ আপডেট অনুযায়ী, ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে ‘বড় অগ্রগতি’ হয়েছে। সে কারণেই হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ অভিযান স্বল্প সময়ের জন্য স্থগিত করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিরতি দেওয়া হয়েছে যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করার সুযোগ তৈরি হয়।

 

হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকা। মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসবাহী বহু জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করে। সাম্প্রতিক উত্তেজনায় প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। Reuters জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী আটকে থাকা বা ঝুঁকিতে থাকা জাহাজগুলোকে নিরাপদে প্রণালি পার করাতে উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার পর সেই অভিযান আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।

 

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার বিষয়টি স্থায়ী শান্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ বহাল থাকছে। অর্থাৎ সামরিক উদ্যোগ সাময়িকভাবে কমলেও ওয়াশিংটনের চাপ পুরোপুরি সরছে না।

 

Associated Press জানিয়েছে, ট্রাম্প মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত করার জন্য অল্প সময়ের বিরতি দেওয়া হচ্ছে। তবে তিনি এটিও স্পষ্ট করেছেন যে ইরানি বন্দর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন হচ্ছে না। এতে বোঝা যাচ্ছে, কূটনৈতিক দরজা খোলা রাখলেও যুক্তরাষ্ট্র চাপ প্রয়োগের কৌশল বজায় রাখছে।

 

ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে Reuters জানিয়েছে। তবে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বেইজিংয়ে বৈঠক করেছেন। এই বৈঠক এমন সময়ে হলো, যখন হরমুজ সংকট এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা চলছে।

 

চীনের ভূমিকা এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা জ্বালানি সরবরাহের সঙ্গে এশিয়ার বড় অর্থনীতিগুলো সরাসরি যুক্ত। AP জানিয়েছে, ওয়াশিংটন চীনকে আহ্বান জানিয়েছে, যাতে বেইজিং ইরানের ওপর প্রভাব খাটিয়ে প্রণালি খুলে দিতে ভূমিকা রাখে। ট্রাম্প-শি বৈঠকের আগে এই আহ্বান কূটনৈতিকভাবে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

 

এদিকে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি এখনো শেষ হয়ে যায়নি। আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, উত্তেজনা থাকলেও যুদ্ধবিরতির কাঠামো বহাল রয়েছে। তবে প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।

 

পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনায় অগ্রগতির কথা বলছে, অন্যদিকে অবরোধ, সামরিক প্রস্তুতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা উদ্বেগ রয়ে গেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিতে এই সাময়িক বিরতি সত্যিই স্থায়ী সমঝোতার পথ খুলে দেবে, নাকি নতুন চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হবে, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক কূটনীতির বড় প্রশ্ন।

 


সম্পর্কিত নিউজ