ইরানের জবাব 'নাকচ' করলো ট্রাম্প, তেলের দাম বাড়লো ৪ শতাংশ

ইরানের জবাব 'নাকচ' করলো ট্রাম্প, তেলের দাম বাড়লো ৪ শতাংশ
ছবির ক্যাপশান, প্রতীকী এআই জেনারেটেড ছবি

ইরানের জবাবকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও লাফিয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের প্রতিক্রিয়া নাকচ করে দেওয়ার পর সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ও যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট, ডব্লিউটিআই, দুটির দামই ৪ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

বাজারের সর্বশেষ হিসাবে, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারস ৪ দশমিক ১৬ ডলার বা ৪ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৫ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডব্লিউটিআই ক্রুড ৪ দশমিক ৩৮ ডলার বা ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৮০ ডলারে লেনদেন হয়। এর আগে গত সপ্তাহে দুই ধরনের তেলের দামই প্রায় ৬ শতাংশ কমেছিল। তখন বাজারে আশা তৈরি হয়েছিল, ১০ সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের দ্রুত অবসান হতে পারে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন আবার স্বাভাবিক হতে পারে।

 

কিন্তু ট্রাম্পের মন্তব্য সেই আশাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি প্রস্তাবে ইরানের জবাবকে তিনি ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলার পর বিনিয়োগকারী ও জ্বালানি ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরবরাহ ঝুঁকি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ অবস্থায় থাকায় বাজারে অস্থিরতা আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সমুদ্রপথ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুল পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে যায়।

 

জ্বালানি বাজারে এখন প্রধান উদ্বেগ, কূটনৈতিক অচলাবস্থা দীর্ঘ হলে সরবরাহ ঘাটতি আরও গভীর হতে পারে। গত কয়েক সপ্তাহে সংঘাত থামার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান আবার কঠোর হওয়ায় সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। ফলে তেলের বাজার আবার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার সরাসরি প্রভাবের মধ্যে পড়েছে।

 

সৌদি আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের রোববার বলেন, যুদ্ধের কারণে গত দুই মাসে বিশ্ববাজার প্রায় ১০০ কোটি ব্যারেল তেল থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তার মতে, সরবরাহ আবার শুরু হলেও জ্বালানি বাজার স্থিতিশীল হতে সময় লাগবে। অর্থাৎ শুধু পরিবহন চালু হলেই সংকট কাটবে না, বরং সরবরাহ ব্যবস্থা, বীমা খরচ, ট্যাংকার চলাচল এবং ক্রেতাদের আস্থা পুনরুদ্ধারেও সময় প্রয়োজন হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে অনিশ্চয়তা তেলের দামের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করছে। এই পথটি স্বাভাবিক না হলে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানিকারক দেশগুলোর সরবরাহ পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে নয়, পরিবহন, উৎপাদন, খাদ্যপণ্য ও বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতিতেও পড়তে পারে।

 

ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বাজারে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে যে, বিনিয়োগকারীরা এখনো সংঘাতের দ্রুত সমাধান নিয়ে নিশ্চিত নন। ইরানের দাবির মধ্যে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, যুদ্ধক্ষতির ক্ষতিপূরণ এবং হরমুজ প্রণালিতে সার্বভৌম অবস্থান নিয়ে জোর দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান কঠোর থাকায় আলোচনার ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

 

তেলের দামে এই ঊর্ধ্বগতি আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব দেশ জ্বালানি আমদানির ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় বাড়তে পারে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেলে পণ্যমূল্যেও নতুন চাপ দেখা দিতে পারে।

 

এখন বাজারের নজর থাকবে ওয়াশিংটন, তেহরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির দিকে। শান্তি আলোচনা এগোয় কি না, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না, এবং বড় উৎপাদকরা সরবরাহ ঘাটতি সামাল দিতে কী পদক্ষেপ নেয়, এসব বিষয়ই আগামী দিনে তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণ করবে।


সম্পর্কিত নিউজ