{{ news.section.title }}
যুদ্ধবিরতি বাড়লেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে সদ্য বাড়ানো যুদ্ধবিরতির মেয়াদ কার্যত কোনো প্রভাব ফেলতে পারেনি। যুদ্ধবিরতি আরও ৪৫ দিনের জন্য বাড়ানোর ঘোষণার একদিনের মাথায় আবারও দক্ষিণ লেবাননে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। একইসঙ্গে নতুন করে কয়েকটি এলাকার বাসিন্দাদের জোরপূর্বক সরিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দিয়েছে তেলআবিব।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার দক্ষিণ লেবাননের অন্তত পাঁচটি গ্রামে হামলা চালানো হয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, সাইদা ও নাবাতিয়াহ অঞ্চলের কাছাকাছি নয়টি গ্রামের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে রয়েছে কাকাইয়েত, আল-সনোবার, কাওতারিয়েত আল-সাইয়াদ, আল-মারওয়ানিয়াহ ও আল-ঘাসসানিয়াহ।
শনিবার সকালে দক্ষিণ লেবাননের ইয়োহমর আল-শাকিফ শহরেও বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান। এছাড়া কফার তেবনিত, আরনুন এবং আরনুন-কফার তেবনিত সড়কে ভারী গোলাবর্ষণের খবর পাওয়া গেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় “হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে” হামলা চালিয়েছে। তবে লেবাননের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, এসব হামলায় সাধারণ মানুষ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এবং অনেক পরিবার আবারও বাস্তুচ্যুত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের পর যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও ৪৫ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়। গত মাসে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথম সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যদিও ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই।
হিজবুল্লাহ এই আলোচনা ও যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঘোষণার পরও ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং কিছু এলাকা দখল করে রেখেছে।
লেবাননের প্রেসিডেন্সি এক বিবৃতিতে বলেছে, “যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় নিরাপত্তা কাঠামো গঠন দেশের জনগণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি তৈরি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার পথ উন্মুক্ত করবে।”
দক্ষিণ লেবাননের টাইর শহর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ওবাইদা হিত্তো জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি বলেন, “যুদ্ধবিরতি এখন শুধু নামেই আছে। শুক্রবার যখন যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, একই সময়ে ইসরায়েল টাইর শহরের দুটি ভবন খালি করার নির্দেশ দেয়।”
তিনি আরও বলেন, “দক্ষিণ লেবাননের মানুষ এখনো বড় ধরনের সংঘাত বৃদ্ধির আশঙ্কায় রয়েছে। কারণ আগের যুদ্ধবিরতির সময়েও ইসরায়েল হামলা আরও বাড়িয়েছিল, এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।” লেবাননের কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ২ হাজার ৯০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ৫ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমানোর জন্য আন্তর্জাতিক মহল কূটনৈতিক উদ্যোগ বাড়ালেও বাস্তবে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অস্থিতিশীল। বিশেষ করে গাজা যুদ্ধের প্রভাব লেবানন সীমান্তে ছড়িয়ে পড়ায় নতুন করে বড় সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সূত্র: আল-জাজিরা