{{ news.section.title }}
পাকিস্তানে পুলিশ চৌকিতে ভয়াবহ হামলা, নিহত ৯ পুলিশ
পাকিস্তানের অস্থিতিশীল বেলুচিস্তান প্রদেশের জিয়ারত জেলায় একটি পুলিশ চৌকিতে সশস্ত্র হামলায় অন্তত নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসএইচও) রয়েছেন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাদেশিক সরকার।
স্থানীয় সময় সোমবার গভীর রাতে জিয়ারত জেলার মাঙ্গি (কাচ মাঙ্গি) এলাকার একটি পুলিশ চৌকিতে কয়েক ডজন সশস্ত্র হামলাকারী অতর্কিত হামলা চালায়। প্রথমে পুলিশ সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললেও পরে হামলাকারীরা চৌকিতে ঢুকে পড়ে এবং কয়েক ঘণ্টাব্যাপী গোলাগুলি চলে।
জিয়ারতের ডেপুটি কমিশনার আবদুল কুদ্দুস আছাকজাই রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। তিনি আরও জানান, হামলার পর পাঁচজন পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান চালাচ্ছে।
বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শহীদ রিন্দ জানান, হামলার পরপরই পরিচালিত যৌথ ক্লিয়ারেন্স অভিযানে অন্তত ১৫ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী এখনো পুরো এলাকা ঘিরে রেখে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে।
নিহত পুলিশ সদস্যদের মধ্যে মাঙ্গি ও কাওয়াস থানার দুই এসএইচও এবং সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটের একজন কর্মকর্তাও রয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। নিহতদের মরদেহ জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
হামলার প্রতিবাদে স্থানীয় বাসিন্দারা কোয়েটা-জিয়ারত মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে কোয়েটা-ঝোব সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। স্থানীয়রা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান।
হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তারা নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সারফরাজ বুগতি বলেন, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে এবং প্রদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়ায় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা বেড়েছে। টিটিপি ও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনী, সরকারি স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। বেলুচিস্তান খনিজসম্পদে সমৃদ্ধ এবং চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের (CPEC) গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই সহিংসতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এদিকে Pakistan Institute for Conflict and Security Studies (PICSS)-এর সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন মাসে বেলুচিস্তানে সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা মে মাসের তুলনায় কমলেও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের হামলার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিয়ারতের সর্বশেষ হামলা প্রমাণ করছে যে পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গি তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।