{{ news.section.title }}
বুধবারের মধ্যে চুক্তি না করলে ইরানে বোমা হামলা - ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নতুন করে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী বুধবারের মধ্যে কোনো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি না হলে ইরানের ওপর আবারও সামরিক হামলা শুরু হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি উড়োজাহাজ এয়ারফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এসব কথা বলেন।
ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ইস্যুতে পরিস্থিতি ভালো দিকেই এগোচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। তিনি জানান, সপ্তাহান্তে আলোচনা চলছে এবং তিনি আশা করছেন বিষয়গুলো ইতিবাচকভাবে এগোবে। তার দাবি, আলোচনার অনেক বিষয় ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে এবং কিছু বিষয়ে সমঝোতাও তৈরি হয়েছে।
তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া যাবে না। তার মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ইরানের হাতে পারমাণবিক অস্ত্র যেতে না দেওয়া; এই বিষয়টি অন্য সবকিছুর ওপরে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর বিষয়ে এখনো নিশ্চিত নন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, ২২ এপ্রিলের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর কোনো সমঝোতা না হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আর বাড়ানো নাও হতে পারে। একই সঙ্গে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ বহাল থাকবে বলেও তিনি জানান।
আরো পড়ুন : মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রচেষ্টায় কেন পাকিস্তানের প্রশংসা করলেন এরদোয়ান?
ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ওয়াশিংটন একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখছে, অন্যদিকে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপও অব্যাহত রাখতে চাইছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, একদিকে অবরোধ থাকবে, অন্যদিকে সমঝোতা না হলে দুর্ভাগ্যজনকভাবে যুক্তরাষ্ট্রকে আবারও বোমা হামলা শুরু করতে হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আগামী বুধবার শেষ হওয়ার কথা। সেই সময়সীমার আগেই দুই দেশ পরোক্ষ আলোচনার মাধ্যমে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। এর আগে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল। তবে হোয়াইট হাউস গত সপ্তাহের মাঝামাঝি জানিয়েছিল, প্রশাসন এখনো একটি চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী।
আরো পড়ুন : হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিতে কী কী নিয়ম মানতে হবে? জানুন বিস্তারিত
ইসলামাবাদের ওই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। পরে তিনি জানান, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হয়েছে, তবে চূড়ান্ত সমঝোতার জন্য ইরানকে আরও এগিয়ে আসতে হবে। ওয়াশিংটনের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
তবে ইরান এখনো নিজেদের অবস্থানে অনড়। তেহরান বলছে, চাপের মুখে তারা কোনো চুক্তিতে যাবে না। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, দেশটির পারমাণবিক উপাদান অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হবে না। ফলে দুই পক্ষের আলোচনায় অগ্রগতি হলেও মূল অচলাবস্থা এখনো কাটেনি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে পরিস্থিতি কিছুটা বদলালেও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য প্রণালিটি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। তবে জাহাজগুলোকে ইরানের নির্ধারিত নিরাপদ রুট ব্যবহার করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় রাখতে হবে। সামরিক জাহাজ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট শত্রুপক্ষের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে তেহরান।